গাজীপুর সংবাদদাতাঃ
সাম্মাম বা রক মেলন চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কামরুজ্জামান খান নামে এক উদ্যোক্তা। তিনি এবার এই ফল চাষে ব্যাপক লাভের আশা করছেন। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,তিনি এবার নিজ গ্রামে জমি বর্গা নিয়ে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সাম্মাম চাষাবাদ করেন। এখন তার বাগানে গাছে গাছে ধরেছে প্রচুর সাম্মাম। ইতোমধ্যে তিনি এখান থেকে ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এই চাষাবাদে জমি বর্গা সহ তার সবমিলিয়ে ৪ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন।
সাম্মাম মূলত সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু, মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত গ্রীষ্মকালীন ফল। আর এই মরুর ফল চাষেই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন কামরুজ্জামান খান।
কৃষি বিভাগের হিসাবে কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআঁশ মাটি সাম্মাম চাষের জন্য সম্ভাবনাময় হতে পারে।
উদ্যোক্তা কৃষক কামরুজ্জামান খান বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে সাম্মাম চাষ করছি। এখন পর্যন্ত লোকসান হয়নি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের পরিবারের পাশাপাশি কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। আগামীতে বিদেশি ফলের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকার মতো সাম্মাম বিক্রি করেছি। কোনো সমস্যা না হলে বাকি ফল ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি। ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকার আড়তে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পাইকারের কাছে প্রতি কেজি সাম্মাম ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ বলেন, রক মেলন বা সাম্মাম সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সংগ্রহের উপযোগী হয়। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতিবিঘা জমি থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের হিসাব সব জমিতে এক নয়। জমির ধরন, শ্রমিকের মজুরি, সেচ, উপকরণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যয় কমবেশি হতে পারে।
কৃ/স/জয়