দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
রংপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন আকরাম আলী নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি ৪৩ শতক জমিতে পেঁপে চাষাবাদ করে ভাল ফলন এবং দামে লাভবান হয়েছেন। পরর্বতীতে তিনি তার পেঁপে বাগান আরো বাড়িয়েছেন। এই চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি সচ্ছলতা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন। সফল এই শিক্ষার্থী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, এ শিক্ষার্থী চলতি বছরে২৫ শতাংশ জমিতে ‘টপলেডি’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৮ শতাংশ জমিতে এ চাষাবাদ সম্প্রসারণ করেন। তার পেঁেপ বাগান থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পেঁপে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়। পাকা পেঁপের বাজারদর কাঁচা পেঁপের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হওয়ায় তিনি কিছুটা অপেক্ষা করে পাকা পেঁপে বাজারজাত করছেন। এই মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি। পেঁপেগাছ থেকে দুই বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়ায় বাগানটি আগামী বছরও ধরে রাখতে পারলে আরও ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কৃষির মাঠেও নিজের স্বপ্ন বুনছেন এই শিক্ষার্থী। তিনি স্বপ্ন দেখছেনএই চাষাবাদের পরিধি আরো বড় করে এখান থেকে ভাল কিছু করার। পেঁপে চাষের পাশাপাশি তিনি নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের চারাও উৎপাদন করছেন।
তরুণ এই উদ্যোক্তা মনে করেন, শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করলে কৃষি কেবল জীবিকা নয়, লাভজনক উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে। তবে এ খাতে নতুনদের এগিয়ে আসার জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীরা কৃষিতে এগিয়ে এলে এর আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ গতিশীল হবে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
কৃ/স/জয়