কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিম চাষে স্বাবলম্বী কৃষকরা

গাইবান্ধা সংবাদদাতাঃ 
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শিম চাষাবাদ করে স্বাভলম্বী হয়েছে অনেক কৃষক পরিবার। কম খরচে আগাম জাতের শিম চাষাবাদ করে বাজারে চড়া দাম পেয়ে তারা অনেক লাভবান হয়েছেন। ফলে এ উপজেলায় দ্রুুত বাড়ছে এ চাষাবাদের পরিধি। 

জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিম, বেগুন, পটল, করলা, বরবটি, মুলা, ঢ্যাঁড়শ, ফুলকপি, কচু, কুমড়া ও লাউ। এসব সবজির বড় একটি অংশ উৎপাদিত হচ্ছে তিস্তার চরাঞ্চলে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জরমনদী গ্রাম। একসময় এ গ্রামে শিম চাষ হতো হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে। প্রতিবেশীর কাছ থেকে বীজ নিয়ে শুরু করা সেই চাষ এখন গ্রামের অনেক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। বর্তমানে গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবার প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে শিম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। শিম চাষে বদলে গেছে তাদের জীবনযাত্রা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) শিম চাষের উপযুক্ত সময়। বীজ রোপণের ৪৫ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে গাছে ফলন আসতে শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে এখানে নাছির উদ্দিন নামে এক চাষী তার শ্বশুরবাড়ি নাটোর থেকে পুঁটি জাতের শিমের বীজ নিয়ে আসেন। প্রথমে বাড়ির উঠানে মাচা তৈরি করে শিম চাষ শুরু করেন তিনি। ভাল ফলন এবং লাভ হলে তার হাত ধরে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এ চাষাবাদ। এখন গ্রামটির অন্তত ৩০ জনের মতো কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এ শিম চাষাবাদ করছেন। যার মাধ্যমে তারা মোটা অংকের টাকা আয় করে এখন স্বাভলম্ভী। 

এ গ্রামের কৃষক আবু তালেব মিয়া জানান,তিনি বাড়ির সামনের ১০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ শুরু করেন।

প্রথম বছর তেমন লাভ না হলেও হাল ছাড়েননি। পরের বছর জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ শতকে শিম চাষ করেন। এতে খরচ বাদে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয় তার। এরপর আবু তালেবের আপন তিন ভাই ও চার চাচাতো ভাই শিম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে গ্রামের অন্যরাও এ চাষে যুক্ত হন। এভাবেই জরমনদী গ্রাম পরিচিতি পায় শিমচাষিদের গ্রাম হিসেবে। 

গ্রামের আরেক চাষি সাইদুজ্জামান মিয়া চলতি মৌসুমে প্রায় দুই বিঘা জমিতে সাটিয়া জাতের শিম চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ জমি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাস শিম বিক্রি চলবে।

এখন পুরো গ্রামে প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে এ শিম চাষাবাদ হচ্ছে। 
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একজনের উদ্যোগে শুরু হওয়া শিম চাষ এখন জরমনদী গ্রামের অনেক পরিবারের জীবিকার অবলম্বন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ফসল শুধু কৃষকদের স্বাবলম্বীই করছে না, একই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের সবজি উৎপাদনেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাগরে জাল ফেললেই লোকসান

1

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’,

2

আগাম আমন ধান কাটা শুরু

3

হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকা বিতরণ

4

ফেরত গেলো খাল খননের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা

5

নার্সারির গ্রাম বাসুদেবপুর

6

অনিয়ম প্রমাণিত হলে বদলাবে সার ডিলারশিপ

7

ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলের কারাদণ্ড

8

চরে আগাম আমন ধান কাটার ধুম

9

পানিফল চাষে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

10

বাকৃবি এগ্রি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের সভাপতি খালিদ,সম্পাদক শ

11

ভারতীয় গরু-মহিষসহ ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

12

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

13

গাকৃবিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

14

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

15

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

16

কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ছাড়

17

কাজিমের আঙিনায় দেশি বিদেশি ফলের সমাহার

18

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

19

কৃষি খাতে স্থবিরতা

20