কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় উৎপাদন হচ্ছে ১৭২ কোটি টাকার জৈব সার

বগুড়া সংবাদদাতাঃ 
বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদন অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক উদ্যোক্তা গোবর, গাছের পাতা, খড়কুটো ও গৃহস্থালির বর্জ্য দিয়ে এই সারা তৈরি করছেন। এ খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৭০০ মানুষের। এ জেলায় গত বছর ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৭ টন জৈব সার উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্যে প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই সার যাচ্ছে সারা দেশের বাজারে। এই সার তৈরি করে উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হচ্ছেন। তেমনি স্থানীয় চাষীরা এই সার ব্যবহার করে অধিক ফসল ও সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। 

কৃষি বিভাগের হিসাবে, গত অর্থবছরে জেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৭ টন জৈব সার উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৯ টন। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন করেছে ২৪ হাজার ১৩০ টন। বাকি ২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৮ টন উৎপাদিত হয়েছে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শেরপুরের উদ্যোক্তা সুরাইয়া ফারহানা রেশমা। প্রায় শূন্য থেকে তিনি এ কাজে যুক্ত হয়ে  এখন তার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ জনের। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৭০০ উদ্যোক্তা তার কাছ থেকে জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তার উৎপাদিত সার বাজারযাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ প্রান্তে। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে এখন সচ্ছল স্বাভলম্বী। 

জৈব সার উৎপাদন করে এই খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকার বিরতি খাতুন ও রাশেদুল ইসলাম রূপম দম্পতি। পারিবারিক নার্সারির প্রয়োজনে আট বছর আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন সার উৎপাদন। এখন নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে প্রতি মাসে অন্তত ৫ লাখ টাকার সার বিক্রি করছেন তারা। তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আরও ২০ জন।

উদ্যোক্তা বিরতি খাতুন জানান, নার্সারিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার থেকে মাটির ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে পেরে জৈব সারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তারা। বাসাবাড়ির সবজির খোসা, গাছের পাতা, খড়কুটো ও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে সার তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্টÑ দুই ধরনের সার উৎপাদন করছেন তারা।

ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদনে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খাত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে জেলায় জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। সদর উপজেলা, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ ও গাবতলী উপজেলায় বাণিজ্যিক উৎপাদন বেশি। জেলায় নিবন্ধিত সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাতটি। এ ছাড়া ছোট-বড় প্রায় ১৫০ জন উদ্যোক্তা এ কাজে যুক্ত। এর মাধ্যমে তারা নিজেদেও কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।  অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জণ করেছেন। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানের পচনে ক্ষতির মুখে চাষীরা

1

ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতায় মাঠে নামলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

2

সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

3

পার্চিং পদ্ধতিতে মিলছে সুফলতা

4

মেঘনার স্রোতে ধসে যাচ্ছে ইলিশা ঘাট

5

দূষণমুক্ত নদী ও পরিবেশ নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

6

বৃক্ষরোপণের সাথে সেগুলোর পরিচর্যা করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত

7

পানির অভাবে আমন ধানের খেত ফেটে চৌচির

8

গাজীপুরকে শব্দ দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ

9

আমন ধানের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

10

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

11

বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নেবে ওমান

12

কাঁচা মরিচের দামের ঝাঁজে দিশেহারা

13

বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কাজিপুরে কাঁচাবাজারে মুল্য বৃদ্ধি

14

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

15

৬০০ শিম গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

16

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

17

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হারাচ্ছে কৃষি জমি

18

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে গরু পালন বাড়ছে

19

৩ অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

20