বগুড়া সংবাদদাতাঃ
বগুড়ার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীর্ষ। ধান কাটা,মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তারা বলছেন,আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ধানের চড়া দাম পেলে তবেই তারা লাভের মুখ দেখবে।
জানা যায়, জেলার নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, সদর, শিবগঞ্জ, কাহালু, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, শেরপুর, ধুনট, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। সোনালি ধানে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা ধান কাটা, আঁটি বাঁধা, মাড়াই এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগাম জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে বিনা-৭, বিনা-১৭, মিনিকেট, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৭৫, রঞ্জিত ও কাটারিভোগ।
ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করার পরিকল্পনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন ধান বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায়, অন্যদিকে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় এবার হাইব্রিড এবং উচ্চ ফলনশীল উফশী জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-১০৩ ও স্বর্ণা-৫ জাতের ধান কাটার কাজ শুরু হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি শীষ। কোথাও কৃষক ধান কাটছেন, কোথাও চলছে মাড়াই, আবার কোথাও কাটা ধান বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের তুলনামূলক কম প্রকোপে আগাম জাতের আমন ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশার আলো।
উপজেলার বাদলাষন গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, আগাম পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এখন ধান কাটা শেষ করে জমি প্রস্তুত করে সরিষা চাষ করব।
কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের ধান চাষ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়। এরপর জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা যায়। এতে জমি দীর্ঘ সময় খালি পড়ে থাকে না এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যেসব কৃষক একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলাতে চান, তাদের কাছে আগাম জাতের আমন ধান দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক আগাম আমন ধান কাটার পর আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষকদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ফসল উৎপাদন করতে পারলে চলতি মৌসুমে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, জেলার বিভিন্ন মাঠে আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সঠিক সময়ে জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। আগাম আমন ধান কাটার মধ্য দিয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃ/স/জয়