নরসিংদী সংবাদদাতাঃ
নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে মাটি ছাড়া নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া বা কোকোপিট ব্যবহার করে সবজি চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ-সবল চারা উৎপাদনের এ পদ্ধতি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে এ চারার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ চারা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মাটির পরিবর্তে জীবাণুমুক্ত কোকোপিট ব্যবহারের ফলে মাটিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্থানীয় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আল আমিন মিয়া বললেন,কোকোপিটে নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে চারা সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। ট্রে থেকে চারা তোলার সময় শিকড় অক্ষত থাকায় জমিতে রোপণের পরও গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
রায়পুরায় মাটি ছাড়া এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রেতে উৎপাদিত হচ্ছে টমেটো, মরিচ, বেগুন, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজির চারা। এ চারা মানে ভাল দামে কম। চাষাবাদে ভালফলন মেলায় দ্রুত চাষীদের মাঝে সারা ফেলেছে।
উপজেলার দুর্গম বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ বর্গমিটারের একটি পলিশেডে দুই বছর ধরে তিনি চারা উৎপাদন করছেন আওলাদ হোসেন নামে এক কৃষক। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তুলেছেন তিনি। কৃষক আওলাদ হোসেন। তার উৎপাদিত চারার মান ভালো হওয়ায় এখন বাঁশগাড়ী ছাড়াও দূর-দূরান্তের কৃষকরা তার নার্সারি থেকে চারা কিনতে আসছেন। এই চারা বিক্রি করে তিনি এখন ভাল টাকা আয় করছেন।
আওলাদ হোসেন জানান,শুরুতে এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন নিয়ে অনেকের সংশয় ছিল। তবে চারা নিয়ে চাষাবাদ করে চাষীরা ভাল ফলাপল পাওয়ায় দ্রুত তার পরিচিতি বেড়েছে। এখন প্রচুর চারা বিক্রি করছেন। স্থানীয় সহ বিভিন্ন এলাকা তার কাছে চারা নিতে আসছেন। এর মাধ্যমে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন।
রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, মাটিবাহিত ক্ষতিকর কৃমি ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত চারা উৎপাদনে এ প্রযুক্তি কার্যকর। প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও নিরাপদ চারা উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
কৃ/স/জয়