কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তুলা চাষে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষামূলক চাষেই মিলেছে তাক লাগানো বাম্পার ফলন। চা ও লেবুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত পর্যটন নগরীতে এ চাষাবাদ গোটা অঞ্চলে কৃষিবিপ্লবের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে । তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিবিড় পরিচর্যা ও উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই অর্জনে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। যা দেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মহাসড়কে নতুন এক মাইলফলক যোগ হতে চলেছে। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাটিতে তুলা চাষাবাদ করছেন চাষীরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন চাষী এ চাষাবাদে বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। লতি মৌসুমে এ উপজেলায় সাড়ে চার কোয়ার (১৫ শতকে এক কোয়ার) জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের ‘সিবি হাইব্রিড-১’ তুলা চাষাবাদ হয়েছে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেতজুড়ে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা গোলাপী ও সাদা রঙের তুলাফুল ঝুলছে, যা দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে।

উপজেলার সাইটুলা গ্রামের উদীয়মান কৃষক তাপস কুমার কুর্মী জানান,তিনি সাড়ে চার কোয়ার জমিতে তুলা চাষাবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাড়ে চার কেয়ার জমি থেকে প্রায় ৬০ মণ তুলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। প্রতি মণ তুলা ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার তুলা বিক্রির প্রত্যাশা তার।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সুত্রে জানা যায়,শুরুতে অতিবৃষ্টির বাধাকে পেরিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ বিঘার মতো জমিতে সুস্থ-সবল তুলা দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকদের এই অদম্য আগ্রহ দেখে আগামীতে  প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক হিসেবে আমরা প্রায় ৬০ মণ ফলন আশা করছি। তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে নতুন জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় সহযোগিতায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব জানান,আমরা যদি দেশে ১ কেজি তুলাও উৎপাদন করতে পারি, তবে প্রায় ৩ ডলার সাশ্রয় হয়। আমাদের ১৬ লাখ বেল তুলার মৌলিক চাহিদা পূরণে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলস কাজ করছি। সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পতিত জমি থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উঁচু জমিগুলোকে টার্গেট করে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে ছয়-সাতটি নতুন অফিস স্থাপন এবং চলতি বছরই সিলেটে একটি নিজস্ব ইউনিট অফিস চালু করা সম্ভব হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাপাসিয়ায় গরু চুরির হিড়িক

1

মরক্কো থেকে ৮৬৯ কোটি টাকার সার আমদানির করবে সরকার

2

তিন বছরে পার্টনার প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ

3

তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে দেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ

4

কাজিপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন র‌্যালি ও পুরস্কার বিতরণ

5

আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

6

টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে হাঁসের রাজত্ব

7

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

8

গুরুদাসপুরে পাটের বাম্পার ফলন হলেও দরপতনে হতাশ চাষিরা

9

মৃত তিমিটিকে মাটি চাপা দিলো বন বিভাগ

10

বিষ প্রয়োগে ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

11

মৎস্য-প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের তালিকা করা হবে-মৎস্য প্রাণিসম

12

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

13

নকল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

14

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

15

কাতারের উদ্দেশ্যে স্পিকারের যাত্রা

16

জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্স এলো ৬ বিলিয়ন ডলার

17

আগাম আলুতে ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা

18

যমুনার চরাঞ্চলে সবুজের সমারোহ

19

হিমাগারের অভাবে বিপাকে কৃষক

20