কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে হাঁসের রাজত্ব

কৃষি সময় ডেস্কঃ 

গাজীপুরের টঙ্গী পশু পাখির হাটে চলে জমজমাট পশু পাখির কেনাবেচা। 

টঙ্গীতে প্রতি সপ্তাহর রবিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই হাট। এই হাটে আসে দুর-দুরান্ত থেকে ব্যবসায়ী আর ক্রেতা-বিক্রেতারা। সকাল থেকেই হাট সরগরম হয়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে। হাটে সারি সারি খাঁচা, ঝুড়ি আর বাঁশের খুপড়ি। কোথাও ডানা ঝাপটানোর শব্দ, কোথাও কবুতরের গুঞ্জন। দেশি মুরগিসহ কমবেশি বিভিন্ন জাতের পাখি ও প্রাণীর দেখা মেলে হাটে। তবে হাটের একপাশে ঢ়ুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি হাঁসের খাঁচা। সাদা, কালো, ছোপছোপ নানা জাতের হাঁসে ভরে আছে। খাঁচার ভেতর ডানা ঝাপটানো আর একসঙ্গে অসংখ্য হাঁসের ডাকের সঙ্গে মিশে আছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক ও দরদাম। সব পাখির ভিড়ে হাঁসের সংখ্যাই যেন বেশি চোখে পড়ে। তাই টঙ্গীর সাপ্তাহিক এই হাটকে ‘হাঁসের রাজ্য’ বলাই যেন বেশি মানানসই। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর বাচ্চার পাশাপাশি দেশি মুরগি ও বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চাও পাওয়া যায়।


হাটের একপাশে তাকালেই দেখা মেলে সারি সারি হাঁসের খাঁচা নিয়ে বসে আছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী। হাঁসের ডাক আর ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। বিভিন্ন জাতের হাঁসের ভিন্ন ভিন্ন ডাক মিলেমিশে যেন তৈরি করেছে অন্যরকম কোলাহল। বিশেষ করে মাংস বেশি দেয় এমন হাঁসের সংখ্যাই বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারাও আসছেন হাঁস কিনতে। সব মিলিয়ে হাঁটজুড়ে হাঁসের ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর ব্যস্ততায় তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত দৃশ্য। 


এই হাটে হাঁস কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় জানায় তার বাসা ঢাকার উত্তরখানে। পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই হাঁস পালনের উদ্যোগ নিয়েছি। টঙ্গীর সাপ্তাহিক পশু-পাখির হাটে এসে ছয়টি হাঁসের বাচ্চা কিনেছি। মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য চিনা জাতের হাঁস বেছে নিয়েছি। আপাতত অল্প পরিসরে পালন করে দেখতে চাই। হাঁসগুলো কীভাবে বেড়ে ওঠে, পালন করতে কী ধরনের সুবিধা বা অসুবিধা হয়। সবকিছু মিলিয়ে ফলাফল কেমন আসে। তারপর বড় চিন্তা করবো।

এই হাটের হাঁস ব্যবসায়ী সেলিম জানালেন তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। টঙ্গীর এই হাটে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত হাঁস বিক্রি করছেন। চারজন মিলে হাঁসের ব্যবসা করেন। শুধু টঙ্গীর হাটেই নয়, ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন হাটেও তারা হাঁস নিয়ে যান। সব মিলিয়ে মাসে ২৪টি হাটে হাঁস বিক্রি করেন। আমরা গ্রামের বিভিন্ন খামার থেকে হাঁস কিনে আনি। এরপর সেগুলো বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করি। একেকটি চালানে ৫০০-এর মতো হাঁস নিয়ে আসি। হাঁসের বয়স, আকার ও জাত অনুযায়ী ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা থাকে। তাই হাটের চাহিদা বুঝে হাঁস সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করার চেষ্টা করি। বর্তমানে প্রতি জোড়া হাঁস ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

টঙ্গী বাজারের এই সাপ্তাহিক হাট শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়। এখানে ডানা ঝাপটানোর শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে খামারির পরিশ্রম, বিক্রেতার জীবিকার স্বপ্ন, ক্রেতার প্রয়োজন আর গ্রামবাংলার এক টুকরো চেনা জীবন। রোববার এলেই সেই জীবন আবার জমে ওঠে খাঁচা, হাঁস, পাখি আর মানুষের কোলাহলে।


কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আঙুর চাষে কলেজছাত্র রুহুলের সাফল্য

1

সোহেল রানার বাগানে এখনও ঝুলছে আম

2

ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

3

সখের প্রাণী খামারে আবিদের বাগ্য বদল

4

বছরজুড়ে চাহিদা মেটাবে বিনা-১ সিডলেস লেবু

5

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

6

বাউয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

7

দেশের জমি চাষ করছে ভারতের লোকজন

8

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

9

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

10

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

11

কমলগঞ্জের টমেটোর চারা যাচ্ছে সারা দেশে

12

রবিবার জাতীয় মৎস্য পক্ষে পুরষ্কার পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি

13

শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির অপরাধে ২০ জনের নামে মামলা

14

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই

15

পচে গেল ৩০ হাজার মণ মজুদ করা আলু

16

মাধবদীতে ২ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ

17

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

18

বাণিজ্যিক বেদেনা চাষে শিবলির ভাগ্য বদল

19

ডিলারশিপ বহাল ও কমিশন দ্বিগুণ করার দাবি বিএফএ’র

20