কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাজনার বিলে কচুরিপানায় ব্যহত আমন আবাদ

পাবনা সংবাদদাতাঃ 
পাবনার সুজানগরে ‘শস্যভান্ডার’ খ্যাত গাজনার বিলে কচুরিপানায় ব্যহত হচ্ছে আমান আাবাদ। পুরো বিলে কচুরিপানার জটলা বাধায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শুধু ধানই নয়, আসন্ন শুকনো মৌসুমে পেঁয়াজ চাষেও বাধা তৈরি হবার আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

জানা গেছে, প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের গাজনার বিলে এ বছর আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। বর্ষায় বিলে পানি বেশি থাকায় শুরুতেই ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। সাধারণত পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমন ধানের গাছ বাড়ে। তবে একই সঙ্গে কচুরিপানার বংশ বাড়ায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গেছে। বর্তমানে বিলের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর অংশের জমি কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে সরকারিভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করে কচুরিপানা মারার চেষ্টা করা হয়। এতে সাময়িকভাবে কিছু এলাকার কচুরিপানা পচে নষ্ট হলেও বর্ষা নামলেই তা আবার আগের রূপ নেয়।

খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কচুরিপানার কারণে বছরের পর বছর ধান ও পেঁয়াজ আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের উচিত এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান বের করা।
গাজনার বিল এলাকার সাধুপুর গ্রামের আমন চাষি গফুর বলেন, জমিতে এত কচুরিপানা জমেছে যে, আমরা নিজেরা চেষ্টা করেও সরাতে পারছি না। ধান গাছের ক্ষতি হচ্ছে। ফলন কম হওয়ার আশঙ্কায় আছি।

একই উপজেলার উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিষ দিয়ে সাময়িকভাবে না মেরে শুকনো মৌসুমে সরকারি প্রকল্প নিয়ে শ্রমিকের মাধ্যমে যদি বিল থেকে কচুরিপানা পুরোপুরি তুলে ফেলা হতো, তবে কৃষকের এই ভোগান্তি থাকত না।
কচুরিপানা সরানোর বিষয়ে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় কৃষক, ছাত্র ও যুবসমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা সরানোর কাজ চলছে। ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কচুরিপানা ধ্বংস করতে বিলে ব্যাপকভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের ফলে পানিতে অঙ্েিজনের পরিমাণ কমতে পারে। এতে বিলের দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও জৈববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক প্রয়োগের চেয়ে যান্ত্রিক বা কায়িক উপায়ে অপসারণই পরিবেশবান্ধব সমাধান। পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে বিলের কচুরিপানা তুলে স্তূপ করে রাখলে তা পচে ভালো মানের জৈব সার হতে পারে, যা পরবর্তী মৌসুমে পেঁয়াজ ও অন্যান্য সবজি চাষে সারের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। 

এ বিষয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, গাজনার বিলের কচুরিপানা অপসারণে কৃষি বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জমির মালিক ও স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জায়গা সংকটে ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

1

শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

2

মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষাবাদ

3

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

4

সাড়ে ৫ মাস পর উৎপাদনে ফিরছে সিইউএফএল

5

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

6

কালো ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

7

মান সনদ ছাড়াই ফিড ব্যবসাঃ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

8

লক্ষীপুরে ৭০ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

9

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

10

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

11

কাজিমের আঙিনায় দেশি বিদেশি ফলের সমাহার

12

৩ শতাধিক পাখি অবমুক্ত

13

শত বছর ধরে বসছে ভাসমান সবজির হাট

14

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

15

জামালপুরে ১৬ বস্তা ঘোড়ার মাংস জব্দ

16

বিলুপ্তির পথে সাদা বক

17

বিরলে ১৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

18

২০ বছর ধরে বন্ধ মৎস্য হ্যাচারি

19

কাঁঠালের খোসা থেকে পরিবেশবান্ধব চামড়া

20