কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কোয়েল,কম্পোস্ট সার তৈরিতে জরিনার সাফল্য

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
কোয়েল পাখি পালন ও কম্পোস্ট সার তৈরি করে নিজের ভাগ্য বদলেছেন জরিনা বেগম নামে এক নারী উদ্যোক্তা। অল্প পুঁজি নিয়ে তিনি এই কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। গড়ে তুলেছেন বিশাল কোয়ের খামার। যার মাধ্যমে আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। সফল এই উদ্যোক্তা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি গ্রাম জিগাতলা-অজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

জরিনা এক সময় চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতেন। সে এবং তার স্বামী দিনরাত পরিশ্রম করে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে সাত সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। স্বামী নাসির উদ্দিন মাদারাসায় বাবুর্চির কাজ করলেও স্বল্প আয়ে চলে না পরিবার। কখনো কখনো না খেয়েও কাটাতে হতো দিন। সেই কঠিন বাস্তবতা জরিনাকে ঠেলে দেয় নতুন পথ খুঁজতে-একসময় বাধ্যতাই হয়ে ওঠে তার শক্তি।

অতিকষ্টে কিছু টাকা জমিয়ে তিনি বাড়িতে শুরু করেন দর্জির কাজ। মনে বড় কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে একটি সংগঠনের মাধ্যমে কেঁচো সার তৈরি ও কোয়েল পালন শিখে নেন। যা কাজে লাগিয়ে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আশা বেড়ে যায় তার। পরিকল্পনা করেন এখান থেকে সঞ্চয় করে বড় কিছু করার। এরপর ইউটিউব দেখে আগ্রহ হয় কোয়েল পালনের। ধারদেনা এর জমানো টাকায় ৫শ’ কোয়েল কিনে তিনি খামার শুরু করেন। কঠিন শ্রম আর যত্নে জরিনা এই খামারে সফলতার দেখ পান। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

 মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তার খামারে এখন সাড়ে ছয় হাজার কোয়েল পাখি। প্রতিদিন এই খামার থেকে সংগ্রহ করেন ৫ হাজারের মতো ডিম। এসব ডিম তিনি স্থানীয় বাজারে ও ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করেন। আয় বাড়িয়ে তার  এই খামারে মুলধান দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ টাকা। আজ জরিনা বেগম নিজ গ্রামে একজন সফল ও পরিচিত উদ্যোক্তা। 

কোয়েল খামারের পাশাপাশি তিনি নিজ বাড়িতে ৮টি হাউজ স্থাপন করে সেখানে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। যেখানে বছরে প্রায় ৪০ মন কেঁচো সার উৎপাদন হয়। পাশাপাশি তার দোকানে রয়েছে লক্ষাধিক টাকার কাপড়ের মজুত-সব মিলিয়ে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি আজ গ্রামের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। জরিনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেক নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। 

নারী উদ্যোক্তা জরিনা জানান,আমার পাঁচটা মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। ভাবতাম, কিছু একটা করতেই হবে। এখন খামার আমার জীবন বদলে দিয়েছে। পড়াশোনা না-থাকা ছিল তার জীবনের বড় বাধা। পরে বয়স্ক স্কুলে ভর্তি হয়ে নাম-ঠিকানা লেখাপড়া শিখেছেন। সেখান থেকেই জানতে পেরেছিলেন-নারীরাও ঘরে বসে আয় করতে পারে। সেই গল্পই তাকে অনুপ্রেরণা দেয়। এরপর ইউটিউব দেখে শেখেন কোয়েল পাখির যত্ন, খাবার দেওয়া, খামার পরিচালনা-সবই। নিজের জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি আর শ্রম দিয়ে আজ তিনি নিজের ভাগ্য বদলেছেন। এখন তিনি ভাবছেন সরকারি কোনো ঋণ পেলে গরুর খামার করার।

ধোবাউরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান,একজন নারী হয়ে জরিনা যে সফলতা দেখিয়েছেন তা খুবই প্রশংসনীয়। তার গল্প বেকার তরুণদের উৎসাহ দেবে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে আখের ক্ষেতে ভাইরাস আক্রমণ

1

পাথরঘাটায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

2

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

3

সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক

4

কালীগঞ্জের কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

5

এয়ার ফ্লো মেশিন বন্ধে পচছে পেঁয়াজ

6

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

7

পোল্ট্রি খামারিদের ঋণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

8

মাছের আঁশ বেচে আয় জেলে পরিবারের

9

মিষ্টি কুমড়োর হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট

10

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

11

সরকার আলু চাষীদের প্রণোদনা দেয়ার পরিকল্পনা করছে - কৃষি উপদেষ

12

স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে গড়েছিলেন বাগান

13

বিশ্বে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ১৮তম

14

গড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ

15

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

16

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

17

দেশি মাছ চাষ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রংপুরে চাষিরা

18

বৈজ্ঞানিকভাবে মাছ চাষ খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

19

চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

20