কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে ঝালকাঠির চাষিরা

ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ 
ঝালকাঠির সুশিষ্ঠ পেয়ারার চাহিদা দেশজুড়ে। এখানকার উৎপাদিত পেযারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। তবে বিপুল চাহিদা থাকার পরেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই কমছে পেয়ারা চাষাবাদ। চাষীরা বলছেন ব্যায় মিটিয়ে লাভ না থাকায় তারা মুখ ফেরাচ্ছে পেয়ারা চাষাবাদ থেকে। 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। এখান থেকে ৫৬২৩ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৬২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬০৪২ মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে পেয়ারার আবাদ কমেছে ৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি বছর এভাবে চাষাবাদ কমে আসছে। এর কারন হিসাবে চাষীরা বলছেন,পেয়ারা বিক্রির পর তাদের হাতে লাভ থাকছে না। ফলে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে না।  

দেশের সবৃহৎ ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা পেয়ারা কিনছেন ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মণ দরে। পেয়ারা চাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেয়ারা আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এ জন্য ৮শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে।

স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান বলেন, এবছর ফলন তেমন ভালো হয়নি। আমরা এখানে চাষিদের থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকায় চালান করেছি। প্রতি মণ পেয়ারা আকার ও কালার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় ক্রয় করি। প্রতিমণ পেয়ারায় ২০০ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে ১০০ টাকা লাভ হয়।

পেয়ারা চাষি সুজন হালদার শানু জানান,মৌসুমে প্রতিদিনই পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। একজন শ্রমিককে দিতে ৮শ টাকা। কিন্তু পেয়ারা বিক্রি করা যায় এক থেকে দেড় হাজার টাকার। অনেক সময় এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হয়। এরচেয়ে আমড়া বা অন্যান্য ফসল চাষ করলে তাতে লাভ বেশি হয়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে পেয়ারার চাষ হ্রাস পাচ্ছে। এ বছর পেয়ারার চাষ কম হওয়ায় চাষিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তরমুজ চাষে জাকিরের বাজিমাত

1

পর্যটন শহরের প্রবেশদ্বারে ময়লার ভাগাড়

2

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

3

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা বাড়ল আরও ১০ দিন

4

কুড়িগ্রামে বাড়ছে জৈব সারের ব্যবহার

5

কাজীপুরে ১৩ জলাশয়ে ২৮৫ কেজি পোনা অবমুক্ত

6

১০ লাখ পরিবারের জরুরি কৃষি সহায়তা প্রয়োজন: এফএও

7

পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা সুমনের

8

সৌদি খেজুর চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

9

নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

10

রাবিতে চালু হচ্ছে জাপানি ভাষা কোর্স

11

পাহাড়ে বারির কফি চাষে নতুন স্বপ্ন

12

মহিষ চড়াতে চাঁদা না দিলে লুট-নির্যাতন

13

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

14

এক গাছেই ধরেছে ১০ জাতের আম

15

কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

16

জেলি মিশ্রিত চিংড়ি বিক্রি ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

17

দাম নেইঃ পানের বরজ ভাঙছেন চাষী

18

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

19

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

20