সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর দুই পাড়ের বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে এখন চাষাবাদ হচ্ছে নানা ধরনের ফসল। যে বালুচর এক সময় পতিত থাকতো। সেখানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি শিখে কৃষকরা হরেক রকম ফসল ফলিয়ে এখন ভাল আয় করছেন। এর মাধ্যমে নধী ভাঙ্গনের শিকার কৃষকরা নিজেদের সংসারের অভার দুর করে সচ্ছলতা অর্জন করছে।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর,সদর,বেলকুচি,শাহজাদপুর হয়ে চৌহালী উপজেলার ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। এই নদীর দুই পাড়ে মাইলের পর মাইল বালুচর। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙ্গনে এসব উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের চাষাবাদের আবাদী জমি চলে গেছে নদী গর্ভে। একদিকে নদী ভেঙ্গে আরেক দিকে চর জাগে। এসব বালুচরে বেশ কয়েক বচর আগেও তেমন কোন ফসল ফলতো না। ফলে চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থকষ্টে ভুগতে হতো। সময়ের পরিবর্তনে এখানকার কৃষকরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ সহ কৃষি বিভাগের সহায়তায় জ্ঞান লাভ করেছেন। যা কাজে লাগিয়ে তারা চরের পলি মাটিতে সময় এবং ধরন অনুর্যায়ী ফসল চাষাবাদ করছেন।
জেলার কাজিপুর থেকে চৌহালীর পর্যন্ত যমুনার দুই পাশের বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে এখন ভুট্টা, বাদাম, গম, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এসব আবাদে নদী এবং চরে নলকূপ বসিয়ে দেয়া হচ্ছে সেচ। সেখানে গরু লাঙ্গলের বদলে পাওয়ার ট্রিলার সহ বড় ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হচ্ছে। যা চাষাবাদে এনে দিয়েছে গতি।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যমুনা চরে মোট জমির পরিমাণ ৬৮ হাজার ৩৫ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর।
চরাঞ্চলের কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। যা কাজে লাগিয়ে তারা মৌসুম বুঝে ফসল সহ সবজি চাষাবাদ করছেন। এতে এখন বাড়তি আয় করছেন তারা। পাশাপাশি মালচিং সহ আধুনিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করে অনেকেই মোটা অংকের টাকা আয় করছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়ার চরের কৃষক আলী মনসুর জানান,বার বার নদী ভাঙ্গনে জমি জমা হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেছিলাম। এখন চরের জমিতে ফসল সহ মৌসুমী সবজি চাষ করি। কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিছি। যা কাজে লাগিয়ে বেশি দামের সবজি উৎপাদন সহ ফসল চাষ করে মোটা অংকের টাকা আয় করি। এখন আর সংসারে অভাব নাই। জমি থেকেই সবজি বিক্রি করি।
কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, প্রতিবছর পানি নামার পরই পলিমাটিতে মরিচ চাষ করেন তিনি। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২ বিঘা জমিতে লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন। সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত মরিচের সুনাম এখন দেশজুড়ে, যা কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা চরে আসেন।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন এলাকার কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জানান, চরের পলিমাটিতে কাঁচা ঘাস হওয়ায় গরু মোটাতাজাকরণ ও দুগ্ধ উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বীজ সরবরাহ ও উন্নত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে যমুনার এই চর অঞ্চলই আগামীতে দেশের কৃষি অর্থনীতির বড় শক্তিতে পরিণত হবে।
কৃ/স/জয়