কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জলবায়ু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২০.৭ বিলিয়ন ডলারঃ কেএইচআই প্রতিবেদন

কৃষি সময় প্রতিবেদকঃ 
বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বছরে ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন  ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং কয়েকটি রোগের চিকিৎসাব্যয় হিসাব করে এ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউট (কেএইচআই) এর এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেশে দিন দিন বাড়লেও এর প্রভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি ও সরকারি অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

‘মাল্টি-ডাইমেনশনাল হেলথ ইমপ্যাক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ: পাথওয়েজ, কস্টস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন কেএইচআইয়ের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০-এর দশকের তুলনায় ২০২০-এর দশকে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এতে ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপ বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

এসব পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অস্বস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অতিরিক্ত গরম হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, শারীরিক পরিশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বন্যা ও দূষিত পানি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে। অন্যদিকে, রোগের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ে, পাশাপাশি মানুষের আয়ও কমে যায়।
এই অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু ও কয়েকটি রোগের চিকিৎসাব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে। তবে এতে বায়ুদূষণ এবং প্রাণঘাতী নয়, এমন অসুস্থতার ব্যয় ধরা হয়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

গবেষণায় তাপপ্রবাহ, মশাবাহিত ও পানিবাহিত রোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সামগ্রিক ক্ষতির মধ্যে বছরে প্রায় ১০০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলার সরাসরি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

কেএইচআই সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন-সংবেদনশীল স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে বছরে ২০৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। শুধু ২০২৪ সালেই অতিরিক্ত তাপের কারণে সম্ভাব্য ২ হাজার ৯৩০ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। এতে অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যÑউভয় ক্ষেত্রেই এই ক্ষতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন খাতভিত্তিক নির্দেশিকা, জেলা পর্যায়ে তাপ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের আরও কার্যকর ব্যবহার জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (হেলথ ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানÑএইচএনএপি) বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি কপ-৩১-সহ আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনাতেও বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

তাপপ্রবাহে কর্মঘণ্টা ও আয় কমছেঃ
গবেষণা অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ তাপপ্রবাহ। ২০২৪ সালে অতিরিক্ত গরমের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার বলে হিসাব করেছে কেএইচআই। তীব্র গরমে শারীরিক শ্রমের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় যে কর্মক্ষমতা হারিয়ে যায়, তার ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।

হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও কৃষিশ্রমিকেরা। নির্মাণশ্রমিকসহ শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর অন্যান্য পেশার মানুষও এ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে তাঁদের স্বাস্থ্য ও আয় দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্রোগ, কিডনি, শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতার কারণে মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণায় পর্যালোচিত অন্যান্য তথ্যেও দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমের দিনে ডায়রিয়া ও তাপজনিত অবসাদ বাড়ে। শীতের তুলনায় গ্রীষ্মে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মাত্রাও বেশি থাকে।

এত বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা নেই। তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশের ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্নভাবে এবং পরস্পর সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এসব ঝুঁকি থেকে জনগণকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, “আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করা, গবেষণা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সময় বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। শক্তিশালী গবেষণালব্ধ প্রমাণ বাংলাদেশকে কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বর্ধিত জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো দাবি তুলে ধরতে সহায়তা করবে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত পদক্ষেপে রূপান্তর করা।”
 
ডেঙ্গু ও দুর্যোগে বাড়ছে চিকিৎসাব্যয়ঃ
দেশের সব জেলার ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, তাপমাত্রা বাড়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। আগের চার সপ্তাহে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে দুই সপ্তাহ পর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঢাকা শহরের বাইরের। তবে মোট মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঘটেছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। গুরুতর রোগীদের অন্য এলাকা থেকে ঢাকায় পাঠানোর কারণে এমনটি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নারীদের মৃত্যুঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ১ দশমিক ৮ গুণ। অন্যদিকে, ৬১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মৃত্যুঝুঁকি শিশুদের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ গুণ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর চাপ বাড়ার আগেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করার সুযোগ রয়েছে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায়ও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসার খরচ এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।

বন্যার কারণে পানীয় জল দূষিত হতে পারে। একই সঙ্গে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি পান করার সঙ্গে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্লাম্পসিয়ার সম্পর্কও বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরে গড়ে ৪১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ৮২৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্যোগের সময় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
 
বায়ুদূষণ কমাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির তাগিদঃ
 প্রতিবেদনে জ্বালানি ব্যবহার ও বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে। এতে উদ্ধৃত মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে।

অন্য একটি হিসাবে দেখা গেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট দূষণের কারণে ২০২২ সালে প্রায় ৩০ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত করছে, অন্যদিকে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেএইচআই। পাশাপাশি তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, টিকা সংরক্ষণ এবং চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
 
স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নে ঘাটতিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসুস্থতা বাড়লে একদিকে পরিবারের চিকিৎসাব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে আয় কমে যায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়ে। ২০২৩ সালে দেশের মোট চলতি স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ পরিবারগুলো নিজেদের পকেট থেকে বহন করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বড় ধরনের দুর্যোগের পরও স্বাস্থ্য খাতে প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে, এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থের ঘাটতির পাশাপাশি বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের মাত্র ২৪ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে।

কেএইচআই বলেছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না; জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

১৬ জেলায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে পদক্ষেপের সুপারিশঃ
 স্বাস্থ্য, অর্থ, শ্রম, জ্বালানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে কেএইচআই। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি, এমন ১৬টি জেলায় কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের গরমের মৌসুমের আগেই জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার সঙ্গে হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে নির্দিষ্ট করণীয় যুক্ত করতে হবে। জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পানীয় ও তরল সরবরাহ, শীতল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে বিশ্রাম, পানীয় জল, ছায়াযুক্ত স্থান এবং কাজের সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্যও আবহাওয়া ও তাপমাত্রাভিত্তিক পরামর্শ চালুর কথা বলা হয়েছে।

দুর্যোগের সময় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আহত মানুষের সংখ্যা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ডায়রিয়ার তথ্য নিয়মিত নথিভুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। বন্যাপ্রবণ এলাকায় আগাম পানি বিশুদ্ধকরণ উপকরণ ও খাবার স্যালাইন মজুত রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে, তা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্ধারণ এবং বাজেটে এ জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন থেকেই এ উদ্যোগ শুরু করার কথা বলেছে কেএইচআই।

তাপপ্রবাহ ও রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি তহবিল গঠন, ঘোষিত ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও ভর্তি রোগীর চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পেতে স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প প্রস্তুত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য খাতে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব প্রতি তিন মাসে প্রকাশ এবং অর্থবছরের শুরুতেই মৌসুমি কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ ছাড় করার কথা বলা হয়েছে।
জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কয়লার ব্যবহার ধাপে ধাপে কমানোর প্রকল্প মূল্যায়নের সময় দূষণ কমলে মানুষের মৃত্যু এড়ানোর সম্ভাব্য আর্থিক মূল্যও বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করেছে কেএইচআই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য একত্র করার জন্য সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। শুরুতে দৈনিক আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে রোগের তথ্য যুক্ত করা এবং তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে ঝুঁকি শনাক্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের বার্ষিক ব্যয়ের হিসাবেও জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ব্যয় আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হলে প্রতিবছর ঝুঁকি ও ব্যয়ের তুলনা করা সম্ভব হবে।
কেএইচআইয়ের মতে, তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা, ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা, রোগীর উন্নত চিকিৎসা, সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা এখনই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। অসুস্থতা, মৃত্যু ও কর্মক্ষমতা হারানোর তথ্য কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

1

৩ হাজার মিটার জাল জব্দ

2

সবজির ফলন দামে চাষিরা খুশি

3

বাঁধের দুই কিলোমিটারজুড়ে সবজি চাষাবাদ

4

চলনবিলে পাখি শিকারের মহোৎসব

5

ন্যাড়া হচ্ছে গারো পাহাড়

6

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

7

হিমাগারে আলু এখন কৃষককের গলার কাটা

8

ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ

9

মেহেরপুরের কৃষকরা আমন-সবজি আবাদে ব্যস্ত

10

বন্যায় ডুবেছে ১.১৪ লাখ হেক্টর জমির ফসল

11

সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

12

কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া হবে -কৃষিম

13

সাপের কামড়ে ১৩ জন হাসপাতালে

14

সেন্টামার্টিনে বিপুল পরিমাণ সার পণ্য জব্দ

15

গাছ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে : এমপি সেলিম রেজা

16

চর দখল করে মাছ চাষ অনাবাদি কৃষি জমি

17

১০ অঞ্চলে ঝড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা

18

চরাঞ্চলে সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষক

19

কুড়িগ্রামে বাড়ছে জৈব সারের ব্যবহার

20