কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাচায় লাউ চাষে নতুন সম্ভাবনা

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ 
মাচায় লাউ চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের চাষীরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বাড়ছে এ চাষাবাদের পরিধি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত লাউ যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। 

জানা যায়,চলতি বছর কালীগঞ্জে প্রায় ২০৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতি ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৭০ মণ বা প্রতি হেক্টরে ২০ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত চাষপদ্ধতি ও উপযুক্ত জাত নির্বাচন করলে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। বারি লাউ-৪ ও ময়না জাতকে উন্নত ফলনশীল জাত হিসেবে উল্লেখ করেছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা উফশী জাতের বারি-১, বারি-২, বারি-৩ ও বারি-৪ এবং উন্নত হাইব্রিড ‘ময়না’ জাতের লাউ চাষ করছেন কৃষকরা।
মাঠে  মাঠে আগাম লাউ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলায় বাড়ছে লাউ চাষের পরিধি। কম সময়ে ভালো ফলন, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় লাউ চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের নতুন পথ খুলছে।

আলী হোসেন  নামে স্থানীয় কৃষক জানান,এক বিঘা জমিতে তিনি মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষাবাদ করেছেন। জমি থেকে তিনি অনেক আগে থেকেই লাউ তুলে বিক্রি করছেন। খরচ বাদেও এ চাষাবাদ থেকে তিনি খরচের চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা লাভ করতে পেরেছেন। 

মাসুদ সরকার নামে আরেক কৃষক জানান, বালু নদীর তীরবর্তী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে আগাম লাউ চাষ করতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে লাউ বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করেছেন তিনি। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। অন্য ফসলের তুলনায় এতে ঝুঁকি কম, লাভের সম্ভাবনাও বেশি। কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে লাউয়ের ফলন বাড়ানো সম্ভব বলেও জানান তিনি।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান,মাচায় লাউ চাষ একটি লাভজনক কৃষিপদ্ধতি। কৃত্রিম পরাগায়ন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত জাত নির্বাচন, যথাসময়ে চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমানো যায়। পাশাপাশি জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমন করলে উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। সবজি ও শাকÑউভয় হিসেবেই লাউয়ের চাহিদা রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ

1

খাল খননে কৃষককের দুর্ভোগ অবসান

2

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে কমছে মধু সংগ্রহ

3

হাঁসের খামারে করে স্বাবলম্বী পল্লব

4

পদ্মায় ধরা পড়ল ৩৩ কেজির বাঘাইড়

5

প্রকল্প শুরুর ৩ বছর ৩ মাস পর অনুষ্ঠিত হলো সমন্বয় সভা

6

সার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কৃষক দল নেতা!

7

কৃষিপণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার-কৃষ

8

এবার শাকসবজিতে মিলেছে ক্ষতিকর জিবাণু

9

জেভাজ কিটনাশকে কমছে উৎপাদনঃ কৃষকের সর্বনাশ

10

নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

11

হিমাগার ভাড়া কমালো সরকার আপত্তি মালিকদের

12

সুনামগঞ্জে হাঁস-মাছ-গরু চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে

13

পেয়ারায় অ্যানথাক্স রোগে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ

14

১১ জেলের কারাদণ্ড

15

সোনালি ফসল কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

16

২শ’বছরেও হয়নি কেল্লাঃ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় মহিষ

17

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

18

শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

19

কৃষি প্রকল্পের এক পিডির বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

20