কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সেচ সংকটে থমকে পাহাড়ের ফল চাষ

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ 
বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে বিশাল এলাকাজুড়ে চাষাবাদ হয়েছে নানা জাতের আম, কাজুবাদাম, কফি, লটকন, কুলসহ নানা ধরনের ফলের। এই ফল চাষে নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা। তবে সেচ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুরের ঝিরি ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করেত খরচ করেত ২ টাকা লিটার। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ায় লাভের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। সরকারি ভাবে এখানে সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করা গেলে অসংখ্যা চাষী ফল,ফসল ফলিয়ে স্বাভলম্বী হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। 

 রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের বেংছড়ি পাড়া, খাব্রে পাড়া, অংজাই পাড়া, লুংলাই পাড়া, বিক্রমণী পাড়া ও মুনথার পাড়ায় প্রায় ৯২টি পরিবার এই সংকটে রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মিশ্র ফলদ বাগান। এই বাগানে আম্রপালি, লিচু, কিউজাই, মিয়াজাকি, সূর্য ডিম, কাজুবাদাম, কফি, লটকন, কুলসহ নানা জাতের ফল চাষাবাদ হয়েছে। এখানকার কোনো কোনো পরিবারের রয়েছে পাঁচ থেকে ১৫ একর পর্যন্ত বাগান। বছরের পর বছর সঞ্চয় ও ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা এসব বাগানই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ পানির অভাবে সেই বাগান থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছেন না তারা।

বাগানগুলোতে সেচের পানির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি ঝিরি। সেখান থেকে শ্রমিক দিয়ে পানি বহন করে আনতে প্রতি লিটারে খরচ পড়ে প্রায় দুই টাকা। পাহাড়ি পথ বেয়ে পানি সংগ্রহের এই ব্যয় বহন করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য কঠিন। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় গাছে পর্যাপ্ত পানি দিতে পারেন না তারা। এতে গাছের বৃদ্ধি, ফলন ও ফলের গুণগত মান কমে যাচ্ছে।

বেংছড়ি পাড়ার ফলচাষি উবায়ই মারমা জানান, পরিবারের সদস্যদের শ্রমেই তিনি বাগান পরিচর্যা করেন। কিন্তু পানির অভাবে সেই শ্রমের যথাযথ প্রতিদান পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ঝিরি থেকে পানি তুলতে অনেক কষ্ট হয়। শীতকাল এলে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। আমার স্ত্রী আর আমি মিলে সারা দিন বাগানে কাজ করি। কিন্তু পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফলন ভালো হয় না।

স্থানীয় ফলচাষি অংশৈনু মারমা বলেন,আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি, কিন্তু পানির অভাবে চোখের সামনে বাগান শুকিয়ে যেতে দেখি। ঠিকমতো সেচের ব্যবস্থা হলে আমাদের উৎপাদন এখনকার চেয়ে তিন গুণ বাড়ত। ফলের গুণগত মান ও স্বাদও আরও ভালো হতো। আমরা শুধু বাঁচতে চাই। সরকারের কাছে একটাই আকুতিÑ আমাদের একটু পানির ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।

এদিকে সেচ সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে কৃষি বিভাগ। উপযুক্ত পানির উৎস, সেচ অবকাঠামো ও পানি বণ্টনব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগের মাধ্যমে দূর থেকে পানি বহনের খরচ ও শ্রম কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে ফলের উৎপাদন ও কৃষকের আয়।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, চাষিদের পানির সংকট নিরসনে নতুন অর্থবছরে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের বিশেষ প্রস্তাবও রয়েছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

1

চুক্তিতে কৃষিসচিব থাকছেন ওয়াহিদা আক্তার

2

৫০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস

3

সাঁওতাল নারীদের মাশরুম প্রক্রিয়াজাতে আয়ের পথ করে দিচ্ছে হাবি

4

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি পরিদর্শনে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম

5

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

6

হিমাগারের অভাবে বিপাকে কৃষক

7

কাতারের উদ্দেশ্যে স্পিকারের যাত্রা

8

নকল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

9

বনে ফিরলো ২৪ পাখি

10

শাহী পেঁপে চাষে সাইদুরের ভাগ্য বদল

11

নলডাঙ্গায় আমনে রোপণে ব্যস্ত কৃষক

12

কাজিপুরে বাড়ছে লাভজনক কলার আবাদ

13

জয়পুরহাটে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

14

দেশে সারের সংকট নেই,পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: কৃষি সচিব

15

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

16

খালে বিষ প্রয়োগে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

17

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন গাজিখালি নদীর পরিবেশ

18

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

19

এক এলাকায় ২০০ কোটির মাছ বেচাকেনা

20