কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাছের ঘের পাড়ে ঝুলছে তরমুজ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ 

সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য ঘের পাড়ে এখন অসময়ের তরমুজ ঝুলছে। চাষীরা পতিত জমি কাজে লাগিয়ে এ চাষাবাদের মাধ্যমে এখন বাড়তি আয় করছেন। লাভজনক হওয়ায় দ্রুত বাড়ছে এ চাষাবাদ। 

জানা যায়,চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৬৫ হেক্টর বেশি। এক সময় যা ছিল কেবল লোনা পানির পরিত্যক্ত বেড়ি, সেখানে এখন কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনা ও প্রযুক্তির স্পর্শে ফলছে বিভিন্ন জাতের ফল ও সবজি।

তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, লোনা পানির ঘেরে ভেসে বেড়াচ্ছে হরেক রকমের মাছ, ঘেরের চারপাশের উঁচু ভেড়িতে ডালপালা মেলে ঝুলছে রসালো তরমুজ। কোনো কোনো ঘেরের তৈরি মাচায় দোল খাচ্ছে করলা, বরবটি ও শসা।

জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক লবণাক্ততা আর মিঠা পানির চরম সংকটে যখন উপকূলীয় এলাকার কৃষি থমকে দাঁড়িয়েছিল, তখন সাতক্ষীরার কৃষকরা অনাবাদি ঘেরের বাঁধকে কাজে লাগিয়ে দেখিয়েছেন নতুন জীবনের পথ। অফসিজন বা অসময়ের তরমুজ চাষে উপকূলের বুকজুড়ে এখন নতুন স্বপ্নের বুনন।

তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে ঘেরের পাড়ে বিস্তৃত মাচা বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

এখানকার কৃষক কৃষ্ণ মন্ডল মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজের আবাদ করে ইতোমধ্যেই প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে যে ফসল আছে, তা থেকে আরও দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। 

আরেক কৃষক নিরঞ্জন বলেন, লোনা ঘেরের আইলে ফসল হবে এমন ধারণা আগে কারো ছিল না। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উন্নত জাতের বীজ ও পরিচর্যা পদ্ধতি প্রয়োগ করে তরমুজের পাশাপাশি করলা, বরবটি ও ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন পেয়েছেন তারা। 

এই নতুন কৃষি বিপ্লবে যুক্ত হয়েছেন ঘরের নারীরাও। চারা রোপণ, মাচা তৈরি থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহসহ সবখানেই তাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

তারা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসে কোনো কোনো এলাকায় পানির লবণাক্ততা ১২ থেকে ১৫ পিপিটিতে গিয়ে ঠেকে। এই বৈরী পরিবেশে প্রথাগত ফসল ফলানো অসম্ভব হলেও বিশেষ প্রযুক্তি আর উন্নত বীজ ব্যবহার করে সাফল্য মিলছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সমতল জমিতে বিঘাপ্রতি তরমুজ চাষে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজারদর ভালো থাকলে বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বর্তমানে এলাকায় সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংকের মতো উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ  আবাদ হচ্ছে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ২০২০ সাল থেকে প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে টেকসই সেচ ব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উপকূলের লবণাক্ততায় ঘেরের অনাবাদি আইলগুলো যেভাবে খাদ্য উৎপাদন ও অর্থ উপার্জনের উৎস হয়ে উঠছে, তা জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারি গাছ কাটায় ৩ জনের দণ্ড

1

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

2

কাজিপুরে শত কোটি টাকার কম্বল বেচাকেনা

3

রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার

4

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

5

হাঁসের খামারে রহিমার ভাগ্য বদল

6

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

7

বোরো মৌসুমে জ্বালানিতে টান

8

চুয়াডাঙ্গায় প্যাকেট জালিয়াতির দায়ে এগ্রো ফার্মকে জরিমানা

9

৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

10

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

11

আগাম শিম চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

12

শেকৃবির ‘আলোকিত মানুষ’ এর নেতৃত্বে সাইদ-শাহাদাত

13

বান্দরবানে খাদ্য সংকটে গাইড-মাঝি

14

বিলুপ্তির পথে গরু-লাঙ্গলের চাষাবাদ

15

কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপি সার কারখানা

16

ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড শুঁটকি মহাল

17

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

18

দুম্বা ও ছাগল পালনে তিন ভাইয়ের সাফল্য

19

নদীতীরে কয়লা চুল্লিতে পরিবেশ বিপর্যয়

20