রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যরে
কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে রাজশাহী মহানগরী। এতে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে পানি
আটকে বিভিন্ন মহল্লা এবং সড়কে জলাবদ্ধতার সৃস্টি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
নগরের
বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত ঘুরে
দেখা যায়, কোথাও রাস্তার পাশে জমে আছে গৃহস্থালির বর্জ্য, কোথাও ড্রেনের মুখে আটকে রয়েছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের প্যাকেট।
ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকে নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাস্তার
পাশে কিংবা নর্দমায় বর্জ্য ফেলছেন। পরে বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য ড্রেনে গিয়ে জমা হচ্ছে।
একবার
ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিন এই
সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। এগুলো সহজে পচে না এবং পানির
সঙ্গে ভেসে গিয়ে ড্রেনের সরু মুখ, সংযোগস্থল ও পানিনিষ্কাশনের পথে
আটকে থাকে। ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন জমে থাকা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়ানোর
ঝুঁকিও তৈরি হয়।
পলিথিনের
এই স্তূপ অপসারণে নিয়মিত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ড্রেন পরিষ্কারের সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তূপ
সরাতে হচ্ছে। এসব বর্জ্য পানির স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দেওয়ায় অল্প সময়ের বৃষ্টিতেও দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নগরীরর
বর্ণালীর বাসিন্দা গৃহিণী নাহার বলেন, মোটামুটি ভালো বৃষ্টি হলে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। তখন আমাদের বাড়িতে পানি ঢ়ুকে যায়। এইভাবে ঘরের সব জিনিস নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে। সবাই কে দেখি বাসার
ময়লা আবর্জনা নিয়ে এসে ড্রেনে ফেলে দিচ্ছে। তাছাড়া আমাদের আশেপাশে অনেকে একটু যে নেমে ময়লা
ফেলবে তা না করে
বারান্দা দিয়ে ফেলে দেয়, এখন সেইগুলো ঘরে ঢ়ুকে যাচ্ছে তা আর নিতে
পারছে না ।
রাসিকের
পরিচ্ছন্নতাকর্মী কামাল বলেন, মানুষ তাদের বাড়ির ময়লা, নাক ধরে দেখি বেচে যাওয়া ভাত তরকারি এসে দেখি ড্রেনে ফেলে দেয়। কিন্তু আমরা সেইগুলো ড্রেন থেকে হাত দিয়ে বের করি। তারা সবাই তো শিক্ষিত কিন্তু
এইরকম কাজ তারাই করে।
উপশহরের
বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, মানুষ এতটাই অসচেতন যে ড্রেনের কিছুটা
অংশ ভেঙে এর মধ্যে ময়লা
ফেলছেন। এতেই জলাবদ্ধতা আরও বেশি হচ্ছে। যারাই বোতল বা পলিথিন ড্রেনে
ফেলবেন তাদের জরিমানার আওতায় আনা হোক। নাগরিকরা সচেতন না হলে সবারই
দুর্ভোগ হবে। সবাই মিলে নগরীকে বাসযোগ্য রাখতে হবে।
রাজশাহী
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, আমাদের প্রতিদিনই ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার চলে। আর এতে সরাসরি
তদারকি করেন রাসিক প্রশাসক। বৃষ্টি হলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এর আগে নগরবাসীকে
সচেতন হতে হবে। ড্রেনে প্লাস্টিক বোতল ও পলিথিনসহ আবর্জনা
না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন