কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে গরু-লাঙ্গলের চাষাবাদ

কৃষি সময় ডেস্কঃ 
এক সময় সারা দেশে মাঠে চাষাবাদের অন্যতম হাতিয়ার ছিলো গরু-লাঙ্গলের হাল। এই হাল ছাড়া কৃষি চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব ছিলো। মাঠে ঘাটে গরু দিয়ে কৃষকদের সেই হাল চাষ এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে যান্ত্রিক নানা চাষাবাদ আসায়। তবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো আদি হাল চাষ টিকে আছে। 

কিন্তু কালের আবর্তে সেই চিরচেনা চিত্র আজ হারাতে বসেছে। তা সত্ত্বেও বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই চাষাবাদের কিছু অবশিষ্টাংশ এখনো টিকে আছে পটুয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া ও যান্ত্রিকীকরণের যুগে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের মাধ্যমেই বেশির ভাগ জমি চাষ করা হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। নিচু ও নরম জমিতে ভারী ট্রাক্টর কাদায় দেবে যাওয়ার ভয়ে অনেক কৃষক আজও লাঙ্গল দিয়েই জমি চাষ করছেন। আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের আগমনে গরু দিয়ে হালচাষ প্রায় উঠেই গেছে, আর গ্রামীণ সমাজের অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন গরু পালন।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা মাঠে দেখা মেলে ঐতিহ্যবাহী গরুর লাঙল দিয়ে জমি চাষের এক অন্যরকম দৃশ্য। সেখানকার বাউরিয়া গ্রামের পেশাদার হালচাষি মো. রফিক হাওলাদার এখনে বাপ-দাদার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের এই পেশা।

রফিক জানায়, এক জোড়া গরু দিয়ে তিনি প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার বিঘা জমি চাষ করেন। এলাকার ১৭-২০টি গ্রামের মধ্যে আমি একাই এখন পেশাদার হালচাষি। তবে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের প্রচলন হওয়ায় গরু দিয়ে হালচাষের কদর কমেছে। কম সময়ে বেশি জমি চাষ করা যাওয়ায় জমির মালিকরা এখন যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। একসময় যারা গরু দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা পেশা বদল করেছেন। তবে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কেউ কেউ আবার পুরোনো এই পদ্ধতিতে ফিরছেন। গরুর লাঙল মাটির গভীরে গিয়ে মাটি উল্টে দেয়, ফলে ওপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি ওপরে চলে আসে। এতে জমিতে ঘাস কম জন্মায়। এছাড়া চাষের সময় গরুর গোবর জমিতেই পড়ে, যা জৈব সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ফসলের ফলন ভালো করতে সাহায্য করে।

একই এলাকার প্রবীণ কৃষক ফোরকান মিয়া বলেন, এখনকার মতো সুযোগ-সুবিধা তখন ছিল না। আধুনিক সব মেশিনের ভিড়ে গরু-লাঙ্গলের হাল আজ বিলুপ্তির পথে। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ও ভালোবাসার টানেই আমি এখনো এই পেশা ধরে রেখেছি। সেকালে গরু, মহিষ, লাঙ্গল ও জোয়াল ছিল কৃষকদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। 
আমাদের এলাকায় অনেক নরম ভেজা কিংবা ছোট উঁচু-নিচু জমি রয়েছে, যেখানে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার চালানো সম্ভব হয় না। এসব জমিতে লাঙল-গরুর হালই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া গরুর হাল জমির অনেক গভীরে যায়, যা উর্বরতার জন্য খুবই উপকারী।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

1

নদী দখলের মহোৎসবে

2

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

3

প্রতি হেক্টরে ধান হবে ১৫ টন, গবেষণা করছে এসিআই

4

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

5

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

6

সার নিয়ে হার্ডলাইনে সরকার

7

১২০ বস্তা সার জব্দ

8

কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান

9

সারের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’- কৃষি সচিব

10

রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে বিক্ষোভে কৃষক

11

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হ

12

দেড় লাখ টন সার কিনবে সরকার

13

হরিণের মাংস সহ আটক এক

14

জেলের জালে ৩ কেজির ভোল পোয়া

15

কাঁঠাল থেকে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট

16

কাজিপুরে বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কুটির শিল্প কর

17

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থান

18

ফসলি জমিতে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা

19

২ শতাধিক বড়ই গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

20