নীলফামারী সংবাদদাতাঃ
নীলফামালীতে চলছে আাগম জাতের সবজি চাষাবাদ। মাঠে মাঠে এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে চাষাবাদে তারা ডিলারের কাছ থেকে চাহিদা মাফিক রাসায়নিক সার ও কিটনাশক পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের বাড়তি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যায় বাড়ছে।
চাষিরা বলছেন, জেলার কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার চাইলে বরাদ্দের সংকট বা মজুত শেষ হওয়ার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ অসাধু ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলারদের গুদামে বস্তা বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মজুত রয়েছে।
শুধু সার নয়, বাজারের দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারের দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পরিচিত ব্র্যান্ডের মানসম্মত কীটনাশকের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে নিম্নমানের ও ভেজাল কীটনাশকের বিস্তারও বেড়েছে। এসব কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা দমন করা যাচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার সবজিচাষি মজনু মিয়া বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। আমরা ন্যায্যমূল্যে সার চাই। নইলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সবজি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে যাবে, দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, সরকারি দামে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সার ২৭ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। সে হিসাবে ৫০ কেজির প্রতি বস্তার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। ডিএপি সার প্রতি কেজি ২১ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি সার প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা এক হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু খুচরা বাজার থেকে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই চড়া দামে সার বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
কিশোরগঞ্জের আলুচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমন ধান কাটার পরই আগাম আলুর বীজ রোপণ করতে হয়। জমিতে সার দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়, অথচ বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিয়ে সার ও ওষুধ কিনতে গিয়ে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় ঠেকছে। জাতভেদে ভালো মানের বীজ কিনতেই সর্বোচ্চ ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া সার ব্যবহারে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, জমি প্রস্তুত ও সেচে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা এবং কীটনাশক ও পরিচর্যায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে, রোপণ থেকে শুরু করে আলু তোলা ও বস্তাবন্দি করা পর্যন্ত শ্রমিক খরচ লাগে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। এভাবে খরচ বাড়লে আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, জেলায় সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়