কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লেবুর গ্রাম বৈলতলা

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতরা গ্রামে ২ যুগের বেশি সময় ধরে লেবু চাষাবাদ হচ্ছে। পুরো গ্রামজুড়ে লেবু চাষাবাদে জড়িত কৃষকরা। বছরজুড়ে এ চাষাবাদে তারা ভাল টাকা আয় করেছেন। এখানকার উৎপাদিত লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। লেচবু চাষাবাদের কারনে এ গ্রামটি এখন জেলায় লেবুর গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। 

জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বৈলতলা গ্রামেই ৯০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। বৈলতলা গ্রামটি লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। সারা বছরই গ্রামের বাগান থেকে লেবু তুলে বিক্রি করেন চাষিরা। এ এলাকার লেবুর চাহিদা দেশজুড়ে।

বৈলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যেদিকে দু-চোখ যায়, শুধু লেবুর বাগান। প্রতিটি বাগানে চলছে কর্মযজ্ঞ। সামনে রমজান মাসকে সামনে রেখে বাগান পরিষ্কার করে সার দেওয়ার কাজ চলছে। এ ছাড়া কেউ শ্রমিক দিয়ে গাছ থেকে লেবু তুলছেন, কেউ বাগান থেকে ঝুড়িতে করে লেবু রাস্তার পাশে জমা করছেন। কেউ ছোট-বড় ও পাকা লেবু বাছাই করছেন, আবার কেউ খাঁচিতে করে বিক্রির জন্য লেবু গাড়িতে তুলছেন।

৩০ বছর আগে শুরু হওয়া লেবু চাষ এখন বৈলতলার প্রতিটি চাষির প্রথম পছন্দ। নিবিড় সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দেয় কাগজি, এলাচি আর কলম্বো জাতের লেবু। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। লেবুর সুবাসে প্রাণও জুড়ায়।

বৈলতলা গ্রামে প্রথম দিকে লেবু চাষ শুরু করা খোরশেদ আলম বলেন, একসময় তাদের এলাকায় আখের চাষ হতো। প্রায় ৩০ বছর আগে তারা লেবু চাষ শুরু করেন। অন্য ফসলের তুলনায় লেবু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় গ্রামের সবাই লেবুর আবাদ শুরু করেন। এভাবেই বৈলতলা গ্রামটি ‘লেবুর গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

বৈলতলা গ্রামের আরেক চাষি শাহ আলম বলেন, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তার লেবুর বাগান রয়েছে। একবার লেবুর চারা রোপণ করে যথাযথ পরিচর্যা করলে ১০ থেকে ১২ বছর ফলন পাওয়া যায়। বছরে চারবার ব্যাপকভাবে লেবু সংগ্রহ করা যায়। এ ছাড়া সারা বছরই বাগান থেকে কমবেশি লেবু তুলে বিক্রি করা যায়। এ গ্রামের লেবু কুমিল্লার নিমসার ও রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়।

স্থানীয় লেবু ব্যবসায়ী আজাহার আলী জানান,এ বছর তিনি এক বছরের জন্য ছয় বিঘা জমির লেবুর বাগান দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন। শ্রমিকের মজুরি, সার ও সেচের খরচ বাদ দিয়ে তার দুই লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন। প্রতি বছরই তিনি লেবুর বাগান কিনে পরিচর্যা করেন এবং লেবু তুলে বিক্রি করে লাভবান হন। লেবুর দাম বেশি থাকলে লাভ বেশি হয়, আর দাম কম থাকলে লাভও কম হয়।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রামেই সবচেয়ে বেশি লেবুর বাগান রয়েছে। এ গ্রামের উৎপাদিত লেবুর চাহিদা দেশজুড়ে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে লেবু চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৈলতলা গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘লেবুর গ্রাম’ নামে পরিচিত। এ গ্রামের চাষিরা এলাচি, সিডলেস, কলম্বো, কাগজি ও স্থানীয় জাতের লেবু চাষ করেন।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ছাড়

1

কাঁচা মরিচের দাম নেমেছে ১০০ টাকায়

2

সরকারি গাছ কাটায় ৩ জনের দণ্ড

3

আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

4

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্

5

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

6

মেছো বিড়াল পিটিয়ে হত্যা

7

কালীগঞ্জের কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

8

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

9

চলনবিলে কচুরিপানা অপসারণ শুরু

10

সার সংকটের প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ

11

কাউনিয়ায় আখের ভাল ফলনে কৃষক খুশি

12

দেশের ২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ,সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

13

আদালতে সশরীরে হাজির মহিষ

14

চড়াদামে সার বিক্রি ব্যবসায়ীকে জরিমানা

15

রংপুরে বায়োগ্যাসে লাভবান উদ্যোক্তারা

16

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

17

পাহাড়ে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে লেমন গ্রাস

18

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

19

নওগাঁয় আড়তে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

20