কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাবার সংকটে লোকালয়ে বানরের হানা

মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ 
মাদারীপুরের নয়াচর ও চরমুগরিয়া এলাকায় খাবার সংকটের লেকালয়ে হানা দিচ্ছে বানরের দল। সরকারি খাবার বন্ধ থাকায় এখানকার হাজার খানেক বানর প্রতিদিন লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এতে স্থানীয়রা পড়েছেন ভোগান্তিতে। 

জানা যায়,এখানকার গাছ পালায় হাজার খানেক বানর বসবাস করে। স্বাভাবিকভাবে আগে তারা দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করতো। কারো তেমন কোন ক্ষতি করতো না। তবে গত ইদানিং বানরের দল এলাকার মানুষের বাসা বাড়ি,সহ পথে ঘাটে খাবার নিয়ে আসতে দেখলেই হামলে পড়ছে তারা। সবকিছু মুহুর্তেই ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। । দিনের বেলায় মানুষের রান্না ঘর সহ ঘরে প্রবেশ করে হাতের কাছে যে খাবার পাচ্ছে তা নিয়ে চলে যাাচ্ছে বানরেরা। যা নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে বানরগুলোর জন্য সরকারি খাদ্য বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। নিয়মিত খাবার না পেয়ে বানরগুলো মানুষের বসতবাড়িতে খাবারের সন্ধানে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের। খাদ্যসংকট, জনবসতি বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়াকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্যসংকটের পাশাপাশি জনবসতি বিস্তার ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বানরগুলো ক্রমেই লোকালয়মুখী হচ্ছে। এতে মানুষ ও বানরের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। বানরগুলোর নিরাপদ আবাসস্থল ও অস্তিত্ব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বানরগুলোকে শুধু লোকালয়ে প্রবেশের কারণে তাড়িয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষ ও বানরের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির শেখ বলেন, বানরগুলো কথা বলতে পারে না। ক্ষুধার কারণে খাবারের সন্ধানে মানুষের কাছে আসছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা না থাকলে এভাবে লোকালয়ে আসতেই থাকবে। এতে মানুষ ও বানরÑদুই পক্ষেরই ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকলিমা বলেন, আগে বানরগুলো গাছপালার মধ্যে থাকত। এখন খাবারের জন্য প্রায়ই বাড়িতে চলে আসে। ঘরে খাবার রাখলেও নিরাপদে রাখা যায় না। তিনি বলেন, বানরগুলো খাবার পাক, আবার মানুষেরও যেন স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে সমস্যা না হয়।

সরকারি খাদ্য বরাদ্দ বন্ধ থাকলেও এলাকার কয়েকজন পশুপ্রেমী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বানরগুলোকে খাবার দিয়ে আসছেন। তবে প্রায় এক হাজার বানরের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে খাবার দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সংকটও কাটছে না।

স্থানীয় পশুপ্রেমী সাব্বির হোসেন বলেন,আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি কিছু না কিছু খাবার বানরকে দিতে। কিন্তু আমার তেমন টাকা নেই। অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি বানর ও অন্যান্য পশুপাখিকে খাবার দিই। সরকার যদি তাদের খাবারের ব্যবস্থা করত, তাহলে তারা মানুষের বাড়িতে গিয়ে বিরক্ত করত না।

সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বানরগুলোর খাবারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও সেই বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি উদ্যোগে খাবার সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষি খাতে স্থবিরতা

1

কাজিপুরে শত কোটি টাকার কম্বল বেচাকেনা

2

সমস্যায় ধুঁকছে ফেনী হর্টিকালচার সেন্টার

3

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিএ

4

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

5

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

6

শেরপুরে ১৫ সার ডিলার কারাগারে

7

উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্যের ভাগাড়ে অতিষ্ঠ মানুষ

8

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

9

চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলন

10

১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধ ৮শ’ বিঘা জমি

11

ব্ল্যাক রাইস চাষে মিজানের সফলতা

12

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে স

13

অন্ধকারে ৭২১ কোটির ‘কৃষক স্মার্টকার্ড’ কার্যক্রম

14

দুম্বা পালনে রবিউলের সফলতা

15

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

16

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই

17

মেহেরপুরে সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

18

তিন বছরে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, এবার কি গতি ফিরবে পার্টনারে?

19

১০ লাখ পরিবারের জরুরি কৃষি সহায়তা প্রয়োজন: এফএও

20