কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দাকোপে নদীগর্ভে যাচ্ছে ফসলি জমি

খুলনা সংবাদদাতাঃ 
অব্যাহত নদীভাঙনে পাল্টে যেতে বসেছে খুলনার দাকোপ উপজেলায় স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও মানচিত্র । সুন্দরবন সংলগ্ন প্রবহমান শিবসা, পশুর, ঢাকি, ভদ্রা, মাঙ্গা, ঝপঝপিয়া ও চুনকুড়ি নদীর আগ্রাসী রূপ প্রতিদিন গ্রাস করছে নতুন নতুন জনপদ ও গ্রাম। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে এখানকার হাজার হাজার বিঘা উর্বর ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের। শত বছরের বসতভিটা হারিয়ে সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন হাজারও পরিবার। 

দাকোপের বটবুনিয়া বাজারের মূল রাস্তাসহ পানখালীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চালনা পৌরসভা, পানখালী ইউনিয়ন এবং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া এলাকায় ঢাকি নদীতে প্রায় দুই শ বিঘা এবং ঝালবুনিয়া এলাকায় শিবসা নদীতে প্রায় তিন শ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। 

তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন গাজী জানান, তার ইউনিয়নের ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৬ কিলোমিটারই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি কামিনীবাসিয়া গ্রামে নদীভাঙনে ৩৬টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।

কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া, লাউডোব, দাকোপ ও বানিশান্তা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই পোল্ডারের পূর্ব ঢ্যাংমারী, ভোজনখালী, আমতলা, বাজুয়া, চুনকুড়ি খেয়াঘাট ও পোদ্দারগঞ্জে অসংখ্য ছোট-বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বানিশান্তার পতিতা পল্লি থেকে আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি হারিয়ে জীবিকা হারিয়ে অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদযোগ্য জমি, বাজার, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও গাছপালা নিয়মিত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে ক্ষেতের ফসল ও বসতভিটা প্লাবিত হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদার রাস্তা নির্মাণকাজ চলছে, তবে তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দীর্ঘকাল ধরে টেকসই বিকল্প উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও সুফল মিলছে না।

দাকোপ উপজেলা মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের তিনটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত পললভূমি। ষাটের দশকে উপকূলীয় জনপদকে লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার্থে নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব, যত্রতত্র স্লুইসগেট নির্মাণ এবং বাঁধ কেটে চিংড়ি ঘেরে পানি উত্তোলনের ফলে বাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গোটা উপজেলা প্লাবিত হয়। সেই ক্ষত আজও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্থানীয়রা। গৃহহীন চার শতাধিক পরিবার অদ্যাবধি বেড়িবাঁধ ও রাস্তার ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আইলার সময় ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মূল ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে রিংবাঁধ নির্মাণ করতে হয়েছে। এতে প্রচুর আবাদি জমি চিরতরে নদীগর্ভে চলে গেছে।

পানখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সাবির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার এলাকায় সর্বত্র নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি এবং ঠিকাদারের বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যেখানে কাজ আগে করা প্রয়োজন, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

1

কুড়িগ্রামে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে

2

অসময়ের টমেটো চাষে তিন গুণ লাভ

3

কৃষককার্ড ও উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব গড়ে তোলায় গুরুত্ব

4

পদ্মার পানিতে ডুবে ক্ষতির মুখে কৃষক

5

চট্রগ্রাম সার কারখানা আবার বন্ধ

6

হিলিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে

7

পান হাটে দুই ঘণ্টায় ৭০ লাখ টাকার বেচাকেনা

8

৩ শতাধিক পাখি অবমুক্ত

9

সুপার হট মরিচে চাষে কামালের সাফল্য

10

পলিটানেলে তরমুজ চাষে সাফল্য

11

বারি চিনাবাদাম-৯ পেল আইএসএসসিএ গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড

12

উল্লাপাড়া ডক্টরস সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন সুকুমার সভাপতি স্বপ

13

চা বাগান থেকে দুই অজগর উদ্ধার

14

লক্ষীপুরে ৭০ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

15

মৎস্য প্রাণীসম্পদ খাতে ৪৪৩ কোটি ক্ষতি

16

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

17

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের আন

18

বায়ু দুষণঃ মারা যায় ৮৮ হাজার মানুষ

19

সরকারি হচ্ছে কাজিপুরে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল কলেজ

20