টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) :
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। কলেজটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কাজিপুর উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি সেলিম রেজার আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কলেজটি সরকারি করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ডিও পত্র অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কাজিপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কলেজটি সরকারি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
১৯৯৪ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবীকা শ্যামলি আফজাল গ্রামীণ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটির নামকরণও ব্যতিক্রমধর্মী। উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় শুরু থেকেই এটি একটি আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার মান, ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের জন্য কলেজটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুই বার নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় উপজেলা, জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার আপ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহন করার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া ২০২৫ সালে আন্ত কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় মঞ্চে খেলার গৌরব অর্জন করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিগ্রি (পাশ) ফাইনাল পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৭৬.৬৭ %, এরমধ্যে ১৬ জন পরীক্ষার্থী প্রথম শ্রেণী অর্জন করে। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম মোস্তফা।
বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস), এইচএসসি বিষয়ে ১২ কোর্স চালু রয়েছে। ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী, ৬১ জন শিক্ষক এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহসীন রেজা বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কলেজটি সরকারি করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা আসা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। কলেজটি সরকারি হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটবে, শিক্ষক নিয়োগ সহজ হবে এবং গ্রামীণ জনপদের হাজারো শিক্ষার্থী আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।"
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করার দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশনার মাধ্যমে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তবে সরকারি হওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই এখন সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
কৃ/স/জয়