বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশালের দুটি খাল খনন না হওয়ায় বরাদ্দের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। কাল দুটির অবস্থান সদর উপজেলায়।
জানা গেছে, সদর উপজেলার মরকখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। কিন্তু প্রকল্পটির কোনো কাজই করা হয়নি। পুরো অর্থই ফেরত দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় এসব খাল খনননের কথা ছিলো।
অন্যদিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা নদীর পাড় (মহাবাজ) থেকে মাতাসার ব্রিজ হয়ে রায়ের খাল পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে বরাদ্দ পাওয়া ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ টাকা। অবশিষ্ট ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকাও ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।
স্থানীয়রা জানান, খাল দুটি বছরের পর বছর ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কমেছে মাছের উৎপাদনও। অথচ বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সম্ভাব্য সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারো মানুষ।
লাকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, খালটি এখন কার্যত ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাজ না হওয়া আমাদের জন্য বড় হতাশার।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোজাম্মেল হক বলেন, খাল দুটি খননের জন্য এঙ্কাভেটর চালানোর মতো জায়গা ছিল না। আবার শ্রমিক দিয়ে খনন করলে উত্তোলিত মাটি ও আবর্জনা তাৎক্ষণিক অপসারণ করতে হতো, কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দে সেই ব্যয় ধরা ছিল না। এ কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি এবং অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
কৃ/স/জয়