ভোলা সংবাদদাতাঃ
একটি দুটি নয়। নদীর পানি কাজে লাগিয়ে শত শত পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। বছরে এসব পুকুর থেকে প্রায় ২শ’কোটি টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। যার মাধ্যমে জীবন এবং জীবিকা চলছে বহু পরিবারের। এভাবে মাছ চাষাবাদে বদলে গেছে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নে।
বেশ কয়েক বছর আগেও চরসামাইয়া ইউনিয়নের মানুষের হাতে তেমন কোন কাজ ছিলো না। সেই ইউনিয়নের মানুষ এখন মাছ চাষাবাদে জড়িয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলেছে। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করলেই দেখা যায় সারি সারি পুকুর। আর তাতে চাষাবাদ হচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ। এসব পুকুরে দিনভর চাষাবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নারী পুরুষ। প্রতিটি পুকুরেই মাছের প্রাচুয্য।
স্থানীয়দের হিসাবে, ইউনিয়নে এখন পাঁচ শতাধিক মাছচাষি রয়েছেন। তাদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ দোকানি, আবার কেউ চাকরির পাশাপাশি করছেন মাছ চাষ। একজনের এক পুকুর দিয়ে শুরু হলেও কারও কারও খামার এখন ১০-৩৫টি পুকুরে বিস্তৃত হয়েছে। এভাবে প্রিিট মাছ চাষী এখন নিজেদের সচ্ছল স্বাভলম্বী করে তুলেছে।
গফল চাষীদের মধ্যে এমনই একজন চাষি মাকসুদ মাতাব্বর। শূন্য থেকে শুরু করে বর্তমানে ৩৫টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন তিনি। তার ভাষ্য, নদীর পানিতে মাছ দ্রুত বাড়ে এবং খাবারের খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে। তাই লাভও ভাল হয়।
এই ইউনিয়নের মাছ চাষী মো. সানাউল্লাহ জানালেন,আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ মাছ চাষে আসছেন। বাজারে মাছের ভালো দাম থাকায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তার দাবি, চরসামাইয়া থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। মাছের এই বাণিজ্য স্থানীয় অর্থনীতিতে আরেকটি পরিবর্তন এনেছেÑ কর্মসংস্থান। মাছ ধরা, বাছাই, ওজন, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে প্রতিদিন কাজ করছেন শত শত মানুষ। নদীতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক জেলেও এখন মাছের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। যা এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল ও শক্তিশালী করেছে।
এসব পুকুরের মাছ বিক্রি করতে দুরে যেতে হচ্ছে না। পুকুর থেকেই চাষীরা মাছ বিক্রি করছেন। দুর-দুরান্ত থেকে পাইকাররা এসে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পুকুর থেকে মাছ তোলার সঙ্গে সঙ্গে ভোলা, বরিশালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে পাইকাররা হাজির হন। পুকুরপাড়েই চলে মাছের বাছাই ও ওজন। এরপর এসব মাছ চলে যায় জেলার বিভিন্ন বাজার ও দেশের অন্য এলাকার বাজারে।
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বললেন, ‘চরসামাইয়ার মাছচাষিরা মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। মৎস্য বিভাগও তাদের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা করছে।
কৃ/স/জয়