নোয়াখালী সংবাদদাতাঃ
নেয়াখালীতে জন বসতি এলাকার উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্যে ফেলে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধের পাশাপাশি বিষাক্ত পানি ও ধোঁয়ায় চর্ম এবং শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন উন্মুক্ত স্থানে এসব বর্জ্য রাখায় মানুষের পাশাপাশি মাছ, উদ্ভিদ ও প্রাণী বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নেয়াখালী পৌরসভা সদর উপজেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে শল্লাহ গ্রামে এই বর্জ্যের ভাগাড় গড়ে তুলেছে।
জানা যায়,শত বছরের পুরনো নোয়াখালী পৌরসভায় প্রতিদিন অন্তত ৮০ টন বর্জ্য একত্রিত হয়। এসব বর্জ্যরে অর্ধেক অপসারণ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা এই ময়লা শহর থেকে অন্তত আট কিলোমিটার দূরের গ্রাম ধর্মপুর গ্রামের উন্মুক্ত স্থানে ভাগাড়ে ফেলা হয়। শুষ্ক মৌসুমে ময়লার ভাগাড়ে দিন-রাত জ্বলে আগুন। এতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো গ্রাম। আর দুর্গন্ধ নিত্যসঙ্গী। এতে স্থানীয়রা বছরের পর বছর চর্ম ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এখান থেকে ময়লা-আবর্জনার পচা বিষাক্ত পানি মানুষের চলাচলের পথ, ডোবা-নালা, পুকুর কিংবা মাছের ঘেরÑসবখানে মিশে যাচ্ছে। যার কারনে মরে ভেসে উঠছে পুকুর ও ঘেরের মাছ।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, ২০২৩ সালের দিকে হঠাৎ করে তাদের গ্রামে সমিতির দোকান-সড়কঘেঁষে ময়লা রাখতে শুরু করে নোয়াখালী পৌরসভা। এতে শহরের ময়লায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের মানুষদের। এটি রুখতে দফায় দফায় আন্দোলন করেছেন স্থানীয়রা। শুরুর দিকে তারা রাস্তায় নামার পর পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করবে। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি।
আনোয়ার হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান,গত দুই বছর পর্যন্ত কয়েকদিন পর পর হাতে ফোসকা উঠছে। ওষুধ খেলে যায়, কয়েকদিন পর আবারো দেখা দেয়। তার মাদরাসা পড়ুয়া ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীরও একই অবস্থা। হাতে ও পায়ে বেশি দেখা দিচ্ছে এসব চর্মরোগ।’ আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, তাদের গ্রামে যখন ময়লার ভাগাড় করা হয়েছে তার কিছুদিন পর থেকে এমন রোগ প্রায় মানুষেরই হচ্ছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন,ময়লার এ পানিতে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক ও মাইক্রোঅর্গানিজম থাকে। ফলে এগুলো আশপাশের খাল, পুকুর বা জমিতে গিয়ে পড়ার কারণে ভূ-উপরিভাগের পানির ডিজলভড অঙ্েিজন কমিয়ে দেয়। এতে মাছ ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী অঙ্েিজনের অভাবে মারা যাচ্ছে। আবার সাধারণ বর্জ্যরে পাশাপাশি হাসপাতালের বর্জ্য থাকায় জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ভাগাড়ের পাশের বাসিন্দা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলায় তা পশুপাখির মাধ্যমেও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও প্রতিবেশের নানা অনুষঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খান বর্জ্যরে কারণে স্থানীয়দের নানা সমস্যা হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে যাদের মাছ মারা গেছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু ধীরগতিতে কাজ এগোনোয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। তবে বারবার চেষ্টা করা হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বাস্তবায়ন করার। এটি হলে সমস্যা দ্রুত শেষ হবে।
কৃ/স/জয়