কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চলনবিল পাখির কলকাকলিতে মুখর

নাটোর সংবাদদাতাঃ 
চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলা এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে। এখানকার বিল-ঝিলে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখির দল। তারা কখনো অগভীর পানিতে ডুব দিয়ে খাবার খুঁজছে, কখনো বিলের ধারে দল বেঁধে বসে থাকছে। পাখির এই আনাগোনায় বদলে গেছে চলনবিলের চিরচেনা দৃশ্যপট। প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। 

প্রতি বছর এই সময় এলেই চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলার বিল-ঝিলে আসতে শুরু করে অতিথি পাখির দল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে পুরো চলনবিলে অতিথি পাখিতে ভরে গেছে। দিনভর পাখির দল বিলের বিভিন্ন এলাকায় খাবার খাচ্ছে। আর বিকেল হলেই পাশ্ববর্তী গ্রামের গাছে গাছে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। দিনরাত তাদের কলকাকলিতে মুখর থাকছে গ্রাম জনপদ। 

বিলে আসা অতিথি পাখির মধ্যে শামুকখোল,সাদাবক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, গাংচিল, কাঁদাখোঁচা সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে। বিলের জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির ওপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে এসব নানা প্রজাতির পাখি। 

প্রকৃতির এই দৃশ্য স্থানীয় মানুষের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আশার বার্তাও বহন করে। তবে পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করা না গেলে এই সৌন্দর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।

স্থানীয় যুবক এবি সিদ্দিক ও আবু সাইদ, রাজু আহমেদ বলেন, অতিথি পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এসব পাখি রক্ষায় চলনবিলে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি জুলহাস কায়েম বলেন, প্রতিবছর শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করে। চলনবিলেও ইতিমধ্যে নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে। খাবারের সন্ধানে এসব পাখি কখনো পানিতে, কখনো বিলের তীরে বিচরণ করছে। কিন্তু জলাভূমি সংকোচন, পানির স্বল্পতা ও অবৈধ শিকার তাদের নিরাপদ বিচরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পাখি রক্ষায় জলাভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি শিকার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করাও জরুরি।

ইতোমধ্যে চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের মাঝে বেশ সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা পাখি শিকারীদের বিভিন্ন এলাকায় বাধা দিচ্ছেন। পাখি জব্দ করে মুক্ত করছেন। অনেক শিকারীকে ধরে প্রশাসনের কাছে দিচ্ছেন। যা বেশ আশা জাগাচ্ছে। 

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেন্টুর ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন

1

৮ হাজার আম গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

2

মাজরা পোকার আক্রমণে দিশেহারা চাষিরা

3

উপকূলের জেলে-মহাজন ঋণের জালে বন্দি

4

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও দূষণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের আহ্ব

5

আগাম কপি চাষে লাভের আশা কৃষকদের

6

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

7

বিএডিসির বেতনগ্রেড অবনমনে আজ থেকে আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা

8

কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপি সার কারখানা

9

আঙুর চাষে কলেজছাত্র রুহুলের সাফল্য

10

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ

11

৪০৩ বস্তা সার জব্দ

12

মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত

13

উল্লাপাড়া ডক্টরস সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন সুকুমার সভাপতি স্বপ

14

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

15

চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংস

16

৩ শতাধিক পাখি অবমুক্ত

17

রঙিন মাছ চাষে পাল্টে গেল রাহাতের জীবন

18

বিশ্বে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ১৮তম

19

বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় সহায়তা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

20