গোপালগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
গোপালগঞ্জে এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের ভাল দাম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
জানা গেছে, এ বছর জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫০ হাজার ৯৬০ টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন কৃষক। আবহাওয়া অনূকেলে থাকায় পাটের ভাল ফলন হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণ পাট এক-দেড় হাজার টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা আগ্রহ কওে চড়া দামে পাট কিনছেন। হাটে আনার পরেই দ্রুত পাট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
কাশিয়ানী উপজেলার সবচেয়ে বড় পাটের হাট ভাটিয়াপাড়া বাজারে গিয়ে কথা হলে আড়তদার শামীম শেখ বলেন,পাট মৌসুমের শুরুতে মিলগুলো পাট কেনা ও টাকা পেমেন্ট বন্ধ করে দেয়। এছাড়া মজুদদাররাও পাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এ কারণে তিন দফা পাটের দাম পড়ে যায়। তখন প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন পাটকল ও মজুদদাররা ৪ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে পাট কিনছেন। এতে বাজারে পাটের আমদানি বেড়েছে। ক্রয়-বিক্রয়ও হচ্ছে প্রচুর।
কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান শেখ বলেন, এ বছর ১৮০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। আমি নিজেই পাটের মাঠে কাজ করেছি। তাই ৫২ মণ পাট উৎপাদনে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, পাট জাগ দিতেও সমস্যা হয়নি। এখন পাটে ভালো দাম পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণ পাটে এক-দেড় হাজার টাকা বেশি পাচ্ছি। ভালো দাম পেয়ে আমি খুশি। এমন দাম পেলে পাটের আবাদ বাড়াব।’
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, এ জেলায় মোট পাটের আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ৫২ হাজার ৬৫৬ টন পাট উৎপাদন হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯৬ টন পাট বেশি উৎপাদিত হয়েছে। খরচ বাদে প্রতি মণ পাট বিক্রি করে কৃষক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। দাম এভাবে থাকলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরো বাড়বে।
কৃ/স/জয়