কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অতিথি পাখির কিচিরমিচিরে মুখর নাজিরপাড়া

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পৌর শহরের নাজিরপাড়া মহল্লার মানুষের এখন সকালের ঘুমভাঙে পাখির কিচিরমিচির শব্দে। গ্রামজুড়ে পাখির উড়াউড়ি আর গাছে গাছে তাদের বিচরণ এক জীবন্ত অভয়ারণ্য। প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি এ গ্রামে আসে। স্থানীয়দের সুরক্ষা আর নির্ভয় পরিবেশে কয়েক মাস অবস্থান শেষে ছানাদের নিয়ে আবার উড়ে যায় নিজস্ব আবাসে। পাখিদের এমন আবাসের কারনে এ গ্রামটি পাখির গ্রাম হিসাবে পরিচিতি।

নাজিরপাড়া গ্রামের প্রায় প্রতিটি বড় গাছেই অসংখ্য বাসা। শামুকখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখিতে মুখর পুরো এলাকা। পাখিদের কলকাকলি আর ওড়াউড়ি দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছরই এসব পাখি এখানে আসে। বিদেশি পাখির মধ্যে শামুকখোল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি ও রাতচরা পাখিও রয়েছে।

গ্রামের লোকজন জানান,সাধারণত জুন-জুলাই মাসে পাখিগুলো নাজিরপাড়ায় এসে বাসা বাঁধে। ডিম পেড়ে ছানা ফোটায়। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থান করার পর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বংশবিস্তার শেষ করে আবার চলে যায়। বছরের পর বছর একই নিয়মে তাদের এই আগমন চলছে। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছর এখানেই ফিরে আসে। বাইরে থেকে অনেকে পাখি শিকার করতে এলেও গ্রামের মানুষ মিলে তাদের বাধা দেন। 

হাবিবুল আলম নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, এই পাখিগুলোর কারণেই আমাদের নাজিরপাড়া এখন অনেকের কাছে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। আমরা নিজেরাও পাখিগুলোকে আপন মনে করি। সুযোগ হলে তাদের খাবারও দিই। শুধু চাই প্রশাসন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করুক, যাতে পরিবেশ ভালো থাকে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মানহা বলে, প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আমাদের গ্রামে শুধু এসব পাখি দেখতে আসে। বিকেলে পাখিদের উড়াউড়ি আর কলকাকলি দেখতে খুব ভালো লাগে।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, নাজিরপাড়া প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এখানে এসে বাসা বাঁধে ও বংশবিস্তার করে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার এলাকাটি পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়েছে। পাখিগুলো যে গাছগুলোতে বাসা বাঁধে, সেসব গাছ সংরক্ষণের জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুল শিক্ষক মোশারফ আম বাগানে সফল

1

কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ছাড়

2

সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

3

গাছ লাগিয়ে বাংলাদেশি সংস্থার আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি

4

বাজারে সবজিরমূল্য চড়া, দাম পাচ্ছেন না কৃষক

5

১০ অঞ্চলে ঝড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা

6

পাট নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের চাষীরা

7

আধুনিক কসাইখানা হলে মাংস রপ্তানি বাড়বে

8

হিলিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে

9

চরের কৃষকের লড়াই ও সম্ভাবনার গল্প

10

সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের বরণ করে নিলো রাবি প্রেসক্লাব

11

পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা সুমনের

12

গোপালগঞ্জের হাসিবের আম যাচ্ছে সারাদেশে

13

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

14

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৯ টন জিরা জব্দ

15

দেশে শিং মাছ চাষাবাদ লাভ জনক হয়ে উঠেছে

16

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

17

ইলিশের ডিমের কেজি ৬ হাজার টাকা

18

খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান

19

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু

20