বরিশাল সংবাদদাতাঃ
বরিশাল সিটি শহরে প্রতিদিন উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে ২০০-২৫০ টন বর্জ্য। এসব বর্জ্য, বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত পানি ও প্লাস্টিক গিয়ে মিশছে পাশের খালে ও কৃষিজমিতে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশ এলাকায়। দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে এলাকাবাসীকে হাঁটতে হয় নাক-মুখ চেপে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এতে নগরীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। এত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জন জীবন।
জানা যায়, ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠিত হয়। বর্তমানে বরিশাল সিটিতে প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস। নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে বাসাবাড়ির বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য ও প্লাস্টিক রয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। সরজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া নগর সাগরদী খালপাড়ের এলাকায় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা খালে ও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছে। একই পরিস্থিতি নগরীর বাইরের দিকের ওয়ার্ডগুলোরও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাগাড়ে বর্জ্যরে স্তূপ বিশাল পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এ এলাকায় চলাচলের সময় নাক চেপে রাখতে হয়। আশপাশের জমিতে আগের মতো ফসলও জন্মায় না বলে অভিযোগ তাদের। তাদের মতে, এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথক করন ও প্রক্রিয়াজাত না করে উন্মুক্ত স্থানে ফেলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এটি প্রতিরোধে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেয়া জরুরি। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলে তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা করা হলে এ দুর্ভোগ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জহির বলেন,উন্মুক্ত ডাম্পিং স্টেশন চালুর পর এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পুরানপাড়া, সরদারকান্দা, রাঢ়িমহল, শ্রীপুর কলোনি, মতাশার, কাউনিয়া হাউজিং এবং চরবাড়িয়ার সাপানিয়া ও উলালঘুনি গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার পরিবার এ ডাম্পিং স্টেশনের কারণে বিভিন্নভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধে ভাগাড়ের আশপাশ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাগাড়ের কাছাকাছি রয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানের মাধ্যমে তা নির্ধারিত স্থানে নেয়া হয়। পরে ট্রাক ও লোডারের সাহায্যে এসব বর্জ্য পরিবহন করে ফেলা হয় ডাম্পিং স্টেশনে। তবে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শেষ গন্তব্য কাউনিয়ার উন্মুক্ত ভাগাড়টি। দুই যুগ আগে ছয় একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এ ডাম্পিং স্টেশন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধে ভাগাড়ের আশপাশ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাগাড়ের কাছাকাছি রয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান ডাম্পিং স্টেশনটি সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান বায়োটেকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেবে বলে জানান তিনি। বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও সম্পদে রূপান্তর করা গেলে দুর্গন্ধ কমে আসবে। কাউনিয়ার বর্তমান জায়গাটি বড় হলেও এটি আবাসিক এলাকা এবং আশপাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই ভাগাড়টি আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নগরীর বাইরে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য নগরীর বাইরে একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃ/স/জয়