উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ, ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় এ চাষাবাদে ঝুঁড়ে পড়েছেন চাষীরা।
জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বাঙ্গালা, সলঙ্গা, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়ে থাকে। এসব এলাকায় ফিলিপাইনের উন্নত জাতের ব্ল্যাক সুগার কেইন এবং স্থানীয় জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। এছাড়া, চিনিকল বা গুড় তৈরির জন্য ঈশ্বরদী অঞ্চলের বেশ কিছু অনুমোদিত জাতের চাষ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আখের আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে আখ চাষাবাদ হয়েছে উপজেলায়।
সলঙ্গা ইউনিয়নের মানিক দিয়ার গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া জানান, এবার জমিতে আখ চাষ করেছি। বর্তমানে প্রতি পিস আখ ৮-১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত অনেক টাকার আখ বিক্রি করেছি। যা অন্য যে কোনো সময় থেকে বেশি। আখ উৎপাদনে খরচ কম হওয়ায় লাভ বেশি তাই আগামী মৌসুমে আরো আখ চাষ করব।
বাঙ্গালা ইউনিয়নের শিমলাদহ গ্রামের কৃষকরা জানান, এবার আখের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হওয়ার লাভের পরিমাণ বেশি। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে এ ফলনে অনেক লাভ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
আব্দুল মজিদ নামে আরেক কৃষক জানান, এ বছর আমি আড়াই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এক বিঘা জমির আখ বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এখন আরোও দেড় বিঘা জমির আখ বেচা বিক্রি চলছ। সব খরচ বাদে এ চাষাবাদে ভাল টাকা লাভ হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, এ উপজেলায় বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের চাষ হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের আখ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা রোগবালাই প্রতিরোধ করে আরও ভালো ফলন পেতে পারেন। কৃষকরা মাঠ থেকেই সরাসরি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এটি এখন অনেক কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক আয়ের উৎস।