জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ ভেড়া পালনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে আশিক চৌধুরী নামের এক যুবক। সে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম চৌধুরীর ছেলে। দাদীর দেয়া মাত্র একটি ভেড়া থেকে তার খামারে এখন ৭০টির মতো ভেড়া রয়েছে। ভেড়া পালনে নিজের সংসার চালিয়ে সে বছরে আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। তার এমন সাফল্যে তরুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ভেড়া পালনের আগ্রহ জন্মেছে।
জানা যায়,আশিক যখন ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র তখন দাদি তাকে একটি ভেড়া উপহার দিয়েছিলেন। সেই ভেড়াই হয়ে ওঠে তার স্বপ্নের সিঁড়ি। সময়ের সঙ্গে ভেড়াটি বাচ্চা দেয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংখ্যা। বাড়তে থাকে আশিকের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসও। প্রায় এক যুগ ধরে পরিচর্যা, ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন তিনি গড়ে তুলেছেন ভেড়ার বিশাল খামার।
গত কোরবানির ঈদে সে ভেড়া বিক্রি করে আয় করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এইচএসসি পাশ করে এখন পড়াশোনা বন্ধ করে পুরোদমে ভেড়াপালন করছে। সুযোগ হলে পড়াশোনা আবারও শুরু করতে চান এই মেধাবী তরুণ।
ভেড়া পালন প্রসঙ্গে আশিক জানান,আমার দাদীর দেয়া একটি ভেড়া থেকে অনেক কষ্ট আর যত্ন করে এই বিশাল ভেড়ার খামার তৈরি করেছি।
এ বছর কোরবানির ঈদের আগে আমার ৯৬টি ভেড়া ছিল। সেখান থেকে ২৬টি ভেড়া ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এখন ছোট-বড় মিলে আমার খামারে ৭০টি ভেড়া রয়েছে। মা অসুস্থ হওয়ার কারণে আমি পুরোপুরি এখন ভেড়া পালনে সময় দিচ্ছি। ভবিষ্যতে ভেড়ার খামার আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি গরুর খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আশিকের মা রেহেনা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আশিক পশুপাখি খুব ভালোবাসে। সে নিজের মতো করে ভেড়াগুলোর যত্ন নেয়। তার এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফল এখন সবাই দেখতে পাচ্ছে। আমার ছেলের আরও বড় খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাসান আলী বলেন, আশিক চৌধুরীর একটি ভেড়ার খামার রয়েছে। তিনি একজন সফল খামারি। আমরা নিয়মিত তাকে কারিগরি সহযোগিতা করি। বর্তমানে আর্থিক কোন সহযোগিতা করার সুযোগ নেই, যদি আগামীতে সরকারিভাবে সুযোগ আসে। তাহলে আমরা তাকে অর্থিক সহযোগিতাও করবো।