রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
রাজশাহীর মিষ্টি পানের চাহিদা দেশজুড়ে। এখানকার অনেক চাষী এ চাষাবাদের মাধ্যমে জেলার কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন। তবে অতি সম্প্রতি পান বরজে নানা রোগ বালাই ও পচন দেখা দিয়েছে। চাষীরা নিজেদেও মতো কিটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার করতে পারছেন না। এতে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাজশাহীর দুর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর, পুঠিয়া ও তানোওে বিপুল পরিমাণ জমিতে পান চাষাবাদ হয়। এর বাইরেও জেলায় বিভিন্ স্থানে পান চাষাবাদ হয়। তবে পরিবেশ ও আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় এবং বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি বছর নানা সমস্যায় ভুগছেন পানচাষীরা। বাজারে পানের আকার-আকৃতি ও সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে এর মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে কয়েক বছর ধরে পানে পচন ও নতুন নতুন অজানা রোগবালাইয়ের আক্রমণ, সময়মতো সার না পাওয়া, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের বাড়তি দামের কারণে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান প্রান্তিক পানচাষীরা।
অথচ এই চাষাবাদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চাষীর পরিবার চলে। বছরজুড়ে পান বিক্রির টাকায় তাদের সংসার চলে। কিন্তু নানা রোগের কারনে এ চাষাবাদে তারা সমস্যার সন্মুখিন হচ্ছেন।
দুর্গাপুরের মীরপুর গ্রামের পানচাষী বাবর আলী বলেন,আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে পানে এমন সব রোগ হচ্ছে, যা আগে কখনো দেখিনি। এসব রোগ নির্ণয় ও প্রতিকারে বাড়তি খরচ হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
পানের সমস্যা ও সমাধানের ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ বা সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলার আরেক পানচাষী আবির আহম্মেদ বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যায় না। তারা বরজে আসেন না। কালেভদ্রে এলেও সারের ডিলার বা কীটনাশকের দোকানির সঙ্গে চা-নাশতা করে চলে যান। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ বা সহযোগিতা পাওয়া যায় না।
দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দিতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন আড়তদার জয়নাল আবেদীন। পানের বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে বলেন, ‘রাজশাহীর পাইকারি বাজারে ৬৪টি পানে এক বিড়া ধরা হয়। আর ৩২ বিড়ায় হয় এক পোয়া। এক পোয়া পানের পাইকারি বাজারদর ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। খুচরা বাজার ও চাষীদের বিষয়ে জয়নাল আবেদীন জানান, ‘মাস দুয়েক আগে বাজার খারাপ ছিল। তবে এখন ভালো। পানের দাম কিছুটা বেড়েছে। দুই মাস আগে প্রতি বিড়া পানের দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা হয়েছে। ভালো পানের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০-১২০ টাকায়। তবে কৃষকের খরচ তুলতে ও লাভের মুখ দেখতে হলে এ দাম বা বাজারদর আরো বাড়তে হবে।
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষীরা বলছেন,কয়েক বছর ধরে পানে পচন ও নতুন নতুন অজানা রোগবালাইয়ের আক্রমণ, সময়মতো সার না পাওয়া, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের বাড়তি দামের কারণে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান,রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর উপজেলায় পানবরজ আমি ঘুরে দেখেছি। পানের কোনো সমস্যা নেই। মাকড়, গোড়া পচা ও পাতা পোড়া রোগ কখনো কখনো হয়ে থাকে। নতুন রোগবালাইয়ের বিষয়ে শুনিনি। আর আমাদের ফিল্ড অফিসাররা সারাক্ষণ মাঠে কাজ করছেন। তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতাও করছেন। এমন অভিযোগ সত্য নয়।
ক/স/জয়