কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চায়ের জনপদে লেবুর বিস্তার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে দ্রুত বাড়ছে লেবু চাষের পরিধি। কম খরচে,বেশি লাভ এবং রোগ বালাই না থাকায় চাষীরা লেবু চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। তাছাড়া লেবু বিক্রি করে বছরজুড়ে নগদ টাকা মেলায় সংসাওে বাড়তি যোগান দেয়। এ জেলায় ১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হচ্ছে। যা থেকে বছরে প্রায় ১১ হাজার ৯২০ টন লেবু উৎপাদন হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি টিলা আর সমতল জুড়ে বাড়ছে লেবুর আবাদ। গত পাঁচ বছরে উপজেলায় ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফলটির আবাদ বেড়েছে ১০০ হেক্টর। বিশাল এলাকা জুড়ে এখন লেবুর বাগান। সিডলেস, চায়না, কাগজি ও জারা জাতের লেবু চাষ করা হয়। এসব জাতের মধ্যে কাগজি ও সিডলেস লেবুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এখানকার মাটিতে উৎপাদিত লেবুর মানও বেশ ভাল। লেবু চাষের বিস্তার ঘটলেও বিদেশে রপ্তানির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। 
চাষীরা প্রতিদিন বাগান থেকে লেবু তুলে স্থানীয় বাজাওে বিক্রি করেন। অনেক চাষীর বাগান থেকেই পাইকাররা লেবু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন বাগান থেকে জিপগাড়ি ও ঠেলাগাড়িতে করে লেবু বাজারে আসছে। আড়তদাররা তা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। 

শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার এলাকার লেবু বিক্রেতা জসিম মিয়ার ভাষ্য, মৌসুমে আকারভেদে প্রতি পিস লেবু পাইকারি আড়তে বিক্রি হয় ২-১০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫-৩৫ টাকায়।

লেবুর আড়তদার আব্দুল মালেকের ভাষায়, শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে আসা লেবু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মেটানোই কঠিন। এর মধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে লেবু কিনে নিয়ে যান।

 শ্রীমঙ্গলের পাইকারি আড়তগুলোয় বড় আকারের প্রতি পিস লেবু গড়ে ৩০, মাঝারি আকারের ২৫ এবং ছোট আকারের ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হোটেল-রেস্তোরাঁয় লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. ময়নুল ইসলাম সানি জানালেন, লেবুর মান নিয়ে তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তবে দাম বেশি থাকলে ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হয়। চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে লেবু বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমতে পারে। এতে চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন, পাশাপাশি ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে লেবু কিনতে পারবেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের মতে, লেবু রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ফলের মান বজায় রাখা, সঠিকভাবে বাছাই ও প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশি বাজারের চাহিদা ও রপ্তানির শর্ত পূরণ করতে হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাওরে ভরা মৌসুমেও মাছের আকাল

1

জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ

2

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

3

জলাবদ্ধতায় ১২ হাজার হেক্টর জমির আমন চাষ ব্যহত

4

হাতিয়ায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

5

শসা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

6

বাঘের হামলায় আহত ৩

7

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

8

শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

9

৩০ অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি ধ্বংস

10

গুদাম থেকে সার লুটপাট করলেন কৃষকরা

11

লোহাগড়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগ

12

অবৈধ ইটভাটায় যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি

13

পাচারের সময় ৫৩ বস্তা সার জব্দ

14

৫০ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

15

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

16

সমন্বিত কৃষি খামারে স্বপ্ন বুনছেন ইখতেয়ার

17

বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের

18

সুন্দরবনের ৮২৭১ জেলে পাচ্ছেন খাদ্য সহায়তা

19

সুন্দরবনের বিষযুক্ত চিংড়িসহ নৌকা জব্দ

20