কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জলাবদ্ধতায় ১২ হাজার হেক্টর জমির আমন চাষ ব্যহত

সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ 
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার কারনে এবার প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করতে পারেনি চাষীরা। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় একদিকে কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। হুমকির মুখে পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি অর্থনীতি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর কৃষিজমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, তালায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪৫০ হেক্টর এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি রয়েছে।
জেলার অন্যতম ফসলি বিল তালা উপজেলার শাকদাহ। বিলটির বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। বর্তমানে শাকদাহ বিলের হাজার হাজার কৃষক আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বছরে শুধু বোরো ধান চাষ করা ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় গবাদিপশুর সংখ্যাও কমছে। বিলের উন্মুক্ত চারণভূমি পানিতে ডুবে থাকায় গরু, ছাগল ও মহিষ পালনের সুযোগ কমে এসেছে।

শাকদাহ কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তারা আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ এক দশক আগেও তাদের জমিতে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। এতে তাদের মতো অনেক কৃষক চাষাবাদ করতে না পেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতার সংকট আরও জটিল হচ্ছে। এতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্রমেই চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ আশেক এলাহী বলেন,সাতক্ষীরার দুর্যোগ পরিস্থিতি এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, বসতবাড়ি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে নদী ও খাল পুনঃখনন জরুরি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘সাতক্ষীরার অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। আমন ধান এ অঞ্চলের কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি ফসল। কিন্তু জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সময়মতো চারা রোপণ ও চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকেরা শুধু একটি মৌসুমের উৎপাদন থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না, তাদের বীজ, সার, শ্রম ও জমি প্রস্তুতের ব্যয়ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সবজি চাষে সেলিনার বাজিমাত

1

১০ বিঘা জমির ধান নস্টের অভিযোগ

2

৪১০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

3

খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক

4

কৃষির রেটে খামারে বিদ্যুতের দাবি জোরালো হচ্ছে

5

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

6

৮টি ব্র্যান্ডের ক্রিমে ভয়াবহ মার্কারিঃ ব্যবহার থেকে বিরত থাক

7

আসিয়ানের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক উচ্চতায় নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

8

বদলে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মসলার গ্রাম

9

সর্জন পদ্ধতির চাষাবাদে লাভবান মুসলিম

10

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে ৩,১২৮ পদে নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রশাস

11

দখল-দূষণে ভরাট হচ্ছে ধলিয়া জলাশয়

12

কৃষককার্ড ও উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব গড়ে তোলায় গুরুত্ব

13

জেভাজ কিটনাশকে কমছে উৎপাদনঃ কৃষকের সর্বনাশ

14

কোয়েল পালনে শামীমের ভাগ্য বদল

15

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

16

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

17

চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংস

18

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

19

শিল্পবর্জ্যে বিপন্ন গাজিখালি নদীর পরিবেশ

20