কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক

কৃষি সময় ডেস্কঃ দেশের খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি এখনও ক্ষুদ্র কৃষকরাই। তাদের হাতেই আসে দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের বড় অংশ। তবে উৎপাদনে নেতৃত্ব দিলেও আয়ের ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে রয়েছেন। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় ও উৎপাদনশীলতার ব্যবধানও তুলে ধরেছে। 

বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, দেশের মোট খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় তাদের বড় অবদান প্রতিফলিত হয়েছে। জরিপটি ২০২৫ সালে দেশের আট বিভাগের ১২ হাজার ৮৭৯টি খানায় পরিচালিত হয়। ফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্যসহ পাঁচটি কৃষি খাত এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য কৃষি খাতের সামগ্রিক অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

জরিপ অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে শ্রম-দিবস প্রতি গড় আয় ১ হাজার ৮৬৮ টাকা। ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষেত্রে এই আয় নেমে আসে ১ হাজার ৪৯৪ টাকায়। অন্যদিকে বড় কৃষকদের শ্রম-দিবস প্রতি আয় ২ হাজার ৩০১ টাকা। অর্থাৎ একই খাতে কাজ করলেও দুই শ্রেণির মধ্যে আয়ের পার্থক্য রয়েছে। এটি উৎপাদন ও আয়ের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানের প্রতিফলন হিসেবে উঠে এসেছে।

খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মৎস্য চাষ। এই খাতে শ্রম-দিবস প্রতি আয় ১১ হাজার ৩৮২ টাকা। এরপর রয়েছে বহুবর্ষজীবী ফসল এবং বনায়ন খাত। এসব খাতে শ্রম-দিবস প্রতি আয় যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৩০ ও ৫ হাজার ৩৯০ টাকা। সবচেয়ে কম উৎপাদনশীলতা দেখা গেছে প্রাণিসম্পদ খাতে, যেখানে আয় ১ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে সব খাতেই ক্ষুদ্র কৃষকরা পিছিয়ে নেই বলে জরিপে দেখা গেছে। বহুবর্ষজীবী ফসল উৎপাদনে তাদের শ্রম-দিবস প্রতি আয় ৯ হাজার ১৮২ টাকা। একই খাতে বড় কৃষকদের আয় ৪ হাজার ৬০৩ টাকা। বনায়ন খাতেও ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় বড় উৎপাদকদের তুলনায় বেশি। এতে কিছু নির্দিষ্ট খাতে তাদের সক্ষমতার চিত্রও উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক চিত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। চট্টগ্রাম ও রংপুরে ক্ষুদ্র কৃষকদের অনুপাত সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সিলেটে বড় খাদ্য উৎপাদকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। উৎপাদনশীলতায় ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ সবার ওপরে রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এই সূচক সবচেয়ে কম রেকর্ড করা হয়েছে।

বার্ষিক আয়ের চিত্রে ব্যবধান আরও বড় আকারে দেখা গেছে। সব খাদ্য উৎপাদকের গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ২৮৬ টাকা। ক্ষুদ্র কৃষকদের গড় আয় বছরে মাত্র ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। বড় কৃষকদের বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রাণিসম্পদ খাত থেকেই ক্ষুদ্র কৃষকদের আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে।

জরিপে কৃষি নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্রও উঠে এসেছে। ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের ১০ দশমিক ৭ শতাংশের প্রধান নারী। বড় উৎপাদকদের ক্ষেত্রে এই হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজশাহীতে ক্ষুদ্র কৃষকদের বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সিলেটে এই আয় সবচেয়ে কম রেকর্ড হয়েছে। বিবিএসের এই জরিপ দেশের খাদ্য ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র কৃষকদের অবদান তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা ও আয়ের ব্যবধানও সামনে এসেছে।

কিছু খাতে তাদের সাফল্যের চিত্রও জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে। আবার সামগ্রিক আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে। এসব তথ্য ভবিষ্যৎ কৃষি পরিকল্পনার জন্য একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

1

আল-আরাফাহ ব্যাংক ফিরিলো পুরোনো মালিকদের হাতে

2

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

3

গাইবান্ধায় বীজতলা তলিয়ে আমন উৎপাদন হুমকিতে

4

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

5

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

6

ফরিদপুরে সবেদা চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

7

বনভূমি দখল রুখে দিল বন বিভাগ

8

বান্দরবানে অবৈধ কাঠের বড় চালান জব্দ

9

বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের

10

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে ৮৪০ হেক্টর জমির ধান

11

মিয়ানমারে পাচারের সময় ২৯৩ বস্তা সার জব্দ

12

চা বাগান থেকে দুই অজগর উদ্ধার

13

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

14

কোল্ড স্টোরেজে বিদ্যুতের বিল বাড়ায় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কৃষকের

15

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

16

বিশ্বে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ১৮তম

17

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

18

আট আগ্রাসনে ধুঁকছে সুন্দরবন

19

৭৩ হাজার গাছ লাগাবে বিজিবি

20