নড়াইল সংবাদদাতাঃ
নড়াইলের বিভিন্ন কৃষি জমির মাঠে মাটি কেটে অপরিকল্পিত ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি চিরতরে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে। হাজার হাজার একর জমি বছরের বেশির ভাগ সময় থাকছে জলাবদ্ধ। অন্যদিকে কমছে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।
নড়াইলে তিন ফসলি উর্বর জমির মাঠে মাছের ঘের খনন করা হিড়িক পড়েছে। এক শ্রেণীর মৎস্য ব্যবসায়ী মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষকদের জমি নিয়ে এসব মাছের ঘের তৈরি করছেন। তারা উন্মুক্ত স্থানে মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণ ও গভীর ঘের তৈরি করা করছেন। এতে বর্ষাকালে নিচু এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে জাবদ্ধতা। যার কারনে কৃষি জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
এভাবে মাছের ঘের খনন করার কারনে লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল, আমাদার বিল, ঘাঘার বিল ও ইছামতীর বিলসহ অন্তত ২০টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় এসব জমিতে সময়মতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে না পেওে চরম ক্ষীতর মুখে পড়েছেন।
আমাদা বিলের কৃষক রইচ উদ্দীন টিপু বলেন, ‘বিলে এত পরিমাণ মাছের ঘের কাটার কারণে মধুমতি নদী থেকে কোনো প্রকার পানি বিলে আর আসে না। এ কারণে অনেক জমি বছরের পর বছর পুরোপুরি অনাবাদি থাকছে। এখন আর তিন ফসল হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন ঘাঘার বিলের কৃষক মাসুদ পারভেজ।
দিনোনাথপাড়া গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘একসময় ইছামতি বিলে আমরা বছরে একাধিকবার ফসল করতাম। তবে বিগত কয়েক বছর পানি আটকে থাকে। তাই একটির বেশি ফসল চাষ করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন,উন্মুক্ত জলাশয় কেবল মাছ চাষের জায়গা নয়। ঘের খননের কারণে জমিগুলো ব্যক্তির দখলে চলে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর তাদের অধিকার হারাচ্ছেন।
লোহাগড়া সরকারি কলেজের কৃষি বিভাগের সাবেক প্রধান কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান সেন্ট বলেন,উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল। বিলগুলোতে একাধিক ঘের খননের ফলে পাখির নিরাপদ খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে পাখির আগমন কমছে, পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে জলজ প্রাণীর সংখ্যাও।
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জেলার তিনটি উপজেলার ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মৎস্য ঘের রয়েছে। তিনি আরও জানান, অন্তত ২০টি বিলে অপরিকল্পিতভাবে ঘের খননের কারণে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুল রহমান বলেন, ‘কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এক শ্রেণির মানুষ আইন অমান্য করে ঘের খনন করে যাচ্ছেন।
কৃ/স/জয়