কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হাঁসের খামারে রহিমার ভাগ্য বদল

নোয়াখালী সংবাদদাতাঃ 
মাত্র ১০ টি হাঁস লালন পালন করে এর খামার গড়ে ভাগ্য বদলেছে বিবি রহমিা নামে এক মহিলা উদ্যোক্তার। সময়ের পরিক্রমায় নিজের মেধা শ্রম দিয় তিনি হাঁসের খামারের আয়ে গড়ে তুলেছেন ১৬ একরের সমন্বিত কৃষি খামার। যা স্থানীয়দের অবাক করেছে। সফল এ উদ্যোক্তা নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের বাসিন্দা।

 জানা যায়,২৩ বছর আগে মাত্র ১০ টি হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে লালন পান শুরু করেন রহিমা। বাড়িতে গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে হাঁস যত্ন নেন তিনি। এরই মধ্যে হাঁসের বাচ্চাগুলো বড় হয়ে ডিম দিতে শুরু করে বাড়তে থাকে তার সংসারের আয়। সাথে বড় হতে থাকে তার হাঁসের খামার। এখান থেকে আয়ের একটা অংশ তার কৃষক স্বামীর সংসারে বড় যোগান দেয়। জমানো টাকায় কেনেন একটি ছাগল। পরে সেটি বাচ্চা দেয়। ঘরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি ছাগল বিক্রি করে একটি গরুর বাছুর কিনেছিলাম। সেটিও বড় হয়ে বাচ্চা দেয়। এভাবেই আমার পশুর খামারে গরু-ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাঁস-মুরগিও একই ভাবে বেড়েছে। এখন তার খামারে গাভি আছে ২১টি। ছাগল আছে ১৩-১৪টির মতো। হাঁস রয়েছে ৫০০টির বেশি। দেশি মুরগি রয়েছে ৩৫০টি। এর বাইরে শাকসবজির খেত, ফলদ গাছের বাগান রয়েছে। তাঁর মাছের ঘেরে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের চাষ করা হয়েছে।

বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে তাঁর সমন্বিত কৃষি খামার। এতে রয়েছে মাছের ঘের, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও শাকসবজি। খামারের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর স্বামী এবং সন্তানেরা। এ ছাড়া নিয়মিত খামারে কাজ করেন চার-পাঁচজন শ্রমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের পাশে মাছের ঘের। সেখানে দলবেঁধে চষে বেড়াচ্ছে হাঁসের দল। ঘেরের পাশে লাগানো হয়েছে পেঁপে, বরইসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ। সারি সারি পেঁপেগাছে কাঁচা ও পাকা পেঁপে ঝুলছে। এর পাশেই চোখে পড়ে লাউ, কুমড়াসহ নানা সবজির খেত। অন্যদিকে রয়েছে গরু-ছাগলের খামার।

জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বিবি রহিমার খামার। গ্রামীণ সড়ক দিয়ে অল্প কিছুদূর সামনে গেলেই খালপাড় এলাকায় চোখে পড়ে তাঁর সমন্বিত কৃষি খামারটি। পাশে রহিমার মেয়ের নামে তৈরি করা হয়েছে নতুন একটি বসতঘর।

উদ্যোক্তা রহিমা জানান,খামারের আয়ে নিজের পরিবারের সচ্ছলতা এসেছে। খামারের আয় দিয়ে নিজের দুই ছেলে ও চার মেয়ের পড়াশোনা এবং পরিবারের খরচ চালিয়েছেন। চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে এক মেয়ে স্নাতকে পড়েন, আরেকজন মাদ্রাসায় মাধ্যমিকে পড়ে। খামারের সবকিছুতেই যতটা সম্ভব নিজের উৎপাদনের ওপর নির্ভর করি। বাজার থেকে সবজির চারা বা হাঁস-মুরগির বাচ্চা কিনি না। নিজের খামারেই মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা ফুটাই। নিজেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি।

তার দুই ছেলের মধ্যে একজন বর্তমানে সৌদি আরবে চাকরি করেন। স্বামীকেও খামারের আয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তবে খামারের কাজে সহায়তার জন্য কয়েক বছর পর দেশে নিয়ে আসেন। এক ছেলে এসএসসি পাসের পর খামারে সহায়তা করছে।

রহিমা জানান, নিজের আয় ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে খামারে বিনিয়োগ করেন তিনি। খামারের আয়ও এতে বেড়েছিল। তবে আয়ে প্রথম ধাক্কা লাগে করোনাকালে। এখন সবকিছু সামলে তিনি তার সমন্বিত কৃষি খামার নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছেন। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেগুন চাষে মাঈনের সাফল্য

1

মিয়ানমারে পাচারের সময় সার ও সিমেন্ট সহ আটক ৬

2

উদ্বোধনের পরেই বন্ধ বর্জ্য শোধনাগার

3

দেশের আট বিভাগীয় শহরে হবে রাবির ভর্তি পরীক্ষা

4

অসময়ের টমেটো চাষে তিন গুণ লাভ

5

আগাম শিম চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

6

আগাম আমন ধান কাটা শুরু

7

পদ্মায় ধরা পড়ল ৩৩ কেজির বাঘাইড়

8

মরিচের চারায় সবুজ হচ্ছে যমুনার চর

9

বন্যপ্রাণীদের বন্ধু সীতেশ আর নেই

10

সাভারে ঘোড়া জবাই করে রেস্তোরাঁয় মাংস বিক্রি

11

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

12

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

13

পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

14

৬ হাজার কোটি টাকার রেনু-পোনা যাচ্ছে সারা দেশে

15

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

16

মাশরুম চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য

17

মজা সুপারির বাজারে ধস

18

দেশীয় রানী মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

19

নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

20