পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ
পঞ্চগড়ের অটোয়ারীতে লাউ চাষে চরম লোকশানে পড়েছে চাষীরা। বাজারে দাম না থাকায় কেউ লাউ কেটে গরুে খাওয়াচ্ছেন। কেউ লাউ বাগান কেটে অন্য ফসলের চাষাবাদ শুরু করেছেন।
অটোয়ারীর বিভিন্ন এলাকার চাষীরা বিপুল পরিমাণ জমিতে লাউ চাষাবাদ করেন। এখানকার লাউ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কম খরচে এ চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হয়। তবে এবার ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। এখানকার চাষীরা এবার লাউ চাষে লাভতো দুরের কথা,চাষের খরচই তুলতে পারছে না। বাজারে দাম না থাকায় বাজারে লাউ বিক্রি হচ্ছে না।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার লাউচাষি আনসারুল ইসলাম জানান, ১০ দিন ধরে তিনি লাউবাগানের পরিচর্যা করছেন না। সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে। শ্রমিকের মজুরি দিতে হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ এবার লাউয়ের দাম সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন বলে জানান তিনি। আনসারুল ইসলাম বলেন, এভাবে কষ্টের ফসলের দাম না পেলে মানুষ কৃষি ছেড়ে দেবে।
তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই অর্থে তার শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না। দুই থেকে তিন হাজার পিস লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। তাই মনের কষ্টে বাগান কেটে ফেলেছি। লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোলেমান আলী বলেন, এবার লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটিই ভালো হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বাইরের বাজারেও লাউয়ের দাম কম বলে জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।
কৃ/স/জয়