জয়পুরহাট সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটে কলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে প্রচুর কলা। বাজার সম্প্রসারণ না হওয়ায় তারা কলা বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়,জয়পুরহাটে চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮১৭ হেক্টর জমিতে, যার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়ে থাকে। পাশাপাশি পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল এবং কালাই উপজেলায়ও পর্যাপ্ত পরিমাণে কলার আবাদ হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার চাষীরা কলা চাষাবাদ করে লাভবান হলেও এবার ঘটেছে তার উল্টো চিত্র। চাষীরা বলছেন কলা চাষাবাদে এবার তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশ গাড়া মহল্লার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ। তারা ধার দেনা করে বেশ কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। তাছাড়া কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় যন্ত্রণায় দিন পার করছেন তারা। তারা আরও জানান, লাভ তো দূরের কথা, এবার পুঁজিও উঠছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
একই এলাকার আরেক কলা চাষী গোলাম ফারুক জানান,এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছেন। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি বাতি/পুষ্ট (পরিপক্ক) হওয়ার আগেই অকালে পাকতে শুরু করায় এবং গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসেনে পড়েছেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট দূরগাদহ বাজারে গিয়ে দেখা যায় কলার দাম একেবারে কম। চাষীরা আগে যে দামে কলা বিক্রি করতেন এখন তার অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না।
হাটে কলা বিক্রি করতে আসা ছাওয়াল পাড়া গামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বাইসাইকেলে করে দুই ঘাউড় (কাঁদি) কলা এনেছেন। কিন্তু বাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তার ২ ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকায়। অথচ অন্যান্য সময়ে এ কলার দাম ছিল অন্তত এক হাজার টাকা।
এই বাজারে আসা কলা চাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, একেবারে ছোট পরিসরে বাজারটি পরিচালনা হওয়ায় দূর দূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো আর পাইকাররা আসেন না। এছাড়া সব সময়ই যানজট লেগে থাকায় বিপাকে পড়তে হয় বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার বলেন, কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সেজন্য আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কলার প্রধান শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃ/স/জয়