কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভোলায় বোম্বাই মরিচ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে

ভোলা সংবাদদাতাঃ 
ভোলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বোম্বাই মরিচের চাষ। কম খরচে অধিক লাভ, বাজারে ভালো চাহিদা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে দ্রুত এ চাষাবাদের বাণিজ্যিক পরিধি বাড়ছে। 

জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ বোম্বাই মরিচে ভরা গাছ। স্থানীয় শ্রমিকেরা নিয়মিত মরিচ সংগ্রহ, বাছাই ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্ষেতজুড়ে সবুজ মরিচের সমারোহ এবং কর্মচাঞ্চল্য নতুন উদ্যোক্তাদেরও আকৃষ্ট করছে।

চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর মাদ্রাজ গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম এবার চার একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বোম্বাই মরিচের আবাদ করছেন। চরাঞ্চলের জোঁ-বাঁধা জমিতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করে সর্জান পদ্ধতিতে চাষ করায় তাঁর জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। ছয় বছর আগে সীমিত পরিসরে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে পুরোদমে এ চাষাবাদ করছেন। 

কৃষক আবদুর রহিম জানান, ২০২৪ সালে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে চার একর জমিতে বোম্বাই মরিচের আবাদ করে তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাই মো. সোহাগ বলেন, চলতি মৌসুমে তাদের ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে,চরফ্যাশনে চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর মাদ্রাজ, জাহানপুর, চর মনিকা, নীলকমল ও রসুলপুর ইউনিয়নে মরিচের আবাদ তুলনামূলক বেশি।
স্থানীয় চাষিরা জানান, অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে চারা রোপণ করা হয় এবং প্রায় তিন মাস পর গাছে মরিচ ধরা শুরু করে। সর্জান পদ্ধতিতে চাষ করায় বর্ষা মৌসুমেও গাছের গোড়ায় পানি জমে না, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়। এ সময় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মরিচের দামও তুলনামূলক বেশি থাকে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার ফারুক বলেন, “স্বাদ ও ঝাঁজের কারণে বোম্বাই মরিচের বাজার চাহিদা ভালো। কম পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন সর্জান পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

স্থানীয় তরুণ কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, “যারা আগে বোম্বাই মরিচ চাষ করে সফল হয়েছেন, তাদের দেখে আমিও এ চাষে আগ্রহী হয়েছি। ভবিষ্যতে আরও জমিতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান,কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বীজ, সার, কীটনাশক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় কৃষকেরা সর্জান পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের ফসল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। ভোলা জেলার যেসব কৃষকের অতিরিক্ত জমি রয়েছে, তারা ধান চাষের পাশাপাশি কিছু অংশে সর্জান পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করলে আর্থিকভাবে আরও লাভবান হতে পারবেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাজারে সবজিরমূল্য চড়া, দাম পাচ্ছেন না কৃষক

1

সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

2

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

3

বদলগাছীতে আমন চারার হাট জমে উঠেছে

4

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

5

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’,

6

বর্ষা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাজারে উত্তাপ

7

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থান

8

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

9

অবৈধভাবে ৬৩৬ বস্তা সার মজুত করায় বিক্রেতার কারাদণ্ড

10

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কঠোর অভিযান চলবে

11

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

12

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

13

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

14

চিড়িয়াখানায় খাঁচা আছে প্রাণী নেই

15

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে চড়া মাছের বাজার

16

দেশের উন্নয়নে বেশি অবদান রাখছেন কৃষিবিদরা

17

লাম্পি আক্রান্ত ২১ হাজার গরুঃমৃত্যু ৪০

18

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিনার জাত বিষয়ে নির্দেশনা

19

চড়ুইয়ের বাড়ি মহম্মদপুর

20