সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: জ্বালানি ছাড়া সূর্যের আলো থেকে গত দুই বছরে দুই লাখ মেগাওয়াট আওয়ারের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক। এই প্রকল্প থেকে এরই মধ্যে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোজন বাড়ায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের এমন সফলতায় যমুনাপাড়ে প্রায় ৯০০ একর জমিতে ৪৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স¤প্রসারণে যমুনা পাড়ে সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২১৪ একর অব্যহৃত জমি লিজ নিয়ে প্রকল্পটি শুরু করে বাংলাদেশ ও চীনের দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন ভেঞ্চার কোম্পানি। বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (ঘডচএঈখ) ও চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (ঈগঈ) যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লি. (বিসিআরইসিএল) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে এটি উৎপাদনে যায়। বর্তমানে এ সোলার পার্কটি ইনস্টল ক্যাপাসিটি ৭৫ মেগাওয়াট থাকলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে করা চুক্তি মোতাবেক ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। ১৬ থেকে ২২ শতাংশ প্ল্যান ফ্যাক্টর অর্জন করেছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন খরচের চেয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকটাই সাশ্রয়ী বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
যমুনা নদীর পাড়ে বিস্তীর্ণ অনাবাদি ভূমির ওপর এই প্রকল্পের সারি সারি দৃষ্টিনন্দন সোলার প্যানেল যে কোনো মানুষকেই আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যমুনার উপচেপড়া পানির ওপরে ভাসতে থাকা সোলার প্যানেলগুলো সৌন্দর্যের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পরিত্যক্ত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এমনই একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আশার আলো দেখাচ্ছে।
কৃ/স/জয়