সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মসুর ও খেসারি ডাল উৎপাদন কমেছে অর্ধেকের বেশি। এ চিত্র গত পাঁচ বছরের।
জানা যায় এ জেলায়, ২০২১ মৌসুমে খেসারি ডাল আবাদ হয় ২ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে। সেখানে ২০২৬ মৌসুমে আবাদ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে ১ হাজার ৪৫ হেক্টর।
আবার ২০২১ মৌসুমে এখানে মসুর ডালের আবাদের পরিমাণ ছিল ৬৫৫ হেক্টর। সেখানে ২০২৬ মৌসুমে আবাদ নেমে এসেছে মাত্র ২০৮ হেক্টরে। পাঁচ বছরে এ শস্যজাতীয় ফসলের আবাদ কমেছে ৪৪৭ হেক্টর। অন্যদিকে ছোলা, বুট ও অড়হর ডালের উৎপাদন নেই বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে সাতক্ষীরায় ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পানিয়া গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, এক দশক আগেও তাদের গ্রামে শত শত বিঘা জমিতে খেসারি ডাল চাষ হয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ক্রমাম্বয়ে জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে ফসলটির উৎপাদন কমে যাওয়ায় আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক।
কলারোয়া উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম পিন্টু জানান, ছয়-সাত বছর ভরা মৌসুমেও শীতের দেখা মেলে না। ফলে এর প্রভাব পড়ছে ডালজাতীয় ফসলের ওপর। আগে বাণিজ্যিকভাবে ছোলা ও মসুর ডাল চাষ করা হলেও এখন কেবল পরিবারের চাহিদা মেটনোর জন্য অল্প কিছু মসুর ডাল চাষ হয়। তাছাড়া গ্রামের কোনো কৃষক ছোলা চাষ করেন না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ডালজাতীয় শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন। এর মধ্যে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া, মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়া, অসময়ে অতিমাত্রায় বর্ষণ ও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে ডালসহ অনেক ফসল আর আগের মতো হচ্ছে না। তাছাড়া এ জেলার কৃষকরা এখন ডালের চেয়ে ধান ও মাছ চাষে বেশি আগ্রহী। ফলে ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন কমে এসেছে। তার পরও ডাল চাষ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
কৃ/স/জয়