কৃষি সময় ডেস্কঃ
কৃষি ও পল্লি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এ খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যার প্রায় ৯১ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত জুন শেষে কৃষি ও পল্লি ঋণে ব্যাংকগুলোর মোট স্থিতি ছিল ৬৩ হাজার ৫৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট স্থিতি ঋণের প্রায় ২৯ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি।
কৃষিঋণে খেলাপির ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের মোট ৪০ হাজার ৯৭০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ স্থিতির বিপরীতে খেলাপি হয়েছে ১৬ হাজার ৮৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণের ৪১ শতাংশই এখন খেলাপি।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণের খেলাপি বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ব্যাংক তুলনামূলকভাবে আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচন ও ঋণ বিতরণের পর তদারকিতে ঘাটতি থাকে। ফলে ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার না হয়ে অন্যত্র চলে গেলে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক থাকে।
অন্যদিকে কৃষিঋণ আদায়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। ৪১টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি ও পল্লি ঋণের স্থিতি ২২ হাজার ৬০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ শতাংশ। আর দেশে কার্যরত আটটি বিদেশি ব্যাংকের ৮৫৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা স্থিতি ঋণের বিপরীতে কোনো খেলাপি ঋণ নেই।
কৃ/স/জয়