কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

করাতকলে উজাড় পাহাড়ি বন

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ 
বান্দরবান জেলার সাত উপজেলায় লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য চলছে একাধিক করাত কল। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলেও আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার পাশে এসব করাতকল চলছে প্রকাশ্য। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যনুর্যায়ী,বান্দরবান জেলায় ৮১টি করাতকলের রয়েছে। মধ্যে মাত্র ৪৫টির লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৩৬টি করাতকল সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিধিমালা অনুর্যায়ী সরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সংবেদনশীল স্থাপনা থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে করাতকল স্থাপন করতে হয়। বিধিমালায় এসব স্থাপনা থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে জেলাজুড়ে চলছে করাতকল। যেখানে সেখানে করাত কল বসিয়ে কাঠ চেরাই করা হচ্ছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, বান্দরবান পৌরসভার উজানীপাড়া এলাকায় একটি এবং বালাঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অন্তত সাতটি করাতকল চলছে। এসব করাতকল জনবসতিপূর্ণ এলাকা, মহিলা কলেজ ও সরকারি স্থাপনার আশপাশে অবস্থিত। তবে অধিকাংশ করাতকল মালিক তাদের প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। কয়েকটি করাতকলের কর্মচারীরাও জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বান্দরবানের অনেক করাতকলই জনবসতিপূর্ণ এলাকার ভেতরে, স্কুল-মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। এতে একদিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে করাতকলের শব্দদূষণ, কাঠবাহী ভারী যানবাহনের চলাচল এবং কাঠের বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ ও জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় থেকে কেটে আনা গাছও কাটা হচ্ছে এসব করাতকলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্যসাইনুং মার্মা বলেন, আমাদের ভবনের পাশেই উজানীপাড়ার মধ্যে করাতকলটি চলছে। প্রতিদিন পাড়ার রাস্তা দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল করে। ক্যসাইনুং মার্মা আরও বলেন, শব্দ ও পরিবেশদূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও করাতকলের শব্দের কারণে স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উজানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মংহ্লাচিং মার্মা বলেন, উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষেই একটি করাতকল চলছে। দিন-রাত শব্দদূষণ হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতের পথ দিয়েই ভারী ট্রাক চলাচল করে। এতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।

এ বিষয়ে করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. রফিক বলেন, আমরা বন বিভাগ থেকে লাইসেন্স নিয়েছি এবং এ বছরও নবায়ন করেছি। তবে তিনি পরিবেশ অধিদফতর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন। 

এ প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বলেন, জেলায় যতগুলো অবৈধ করাতকল রয়েছে সবগুলোকে নোটিস প্রদান করা হবে। সবাইকে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে করাতকল চালাতে হবে। তা না হলে অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৃষ্টিতে কোটি টাকার সবজির চারা নষ্ট

1

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

2

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

3

আট মাসের কাজ শেষ হয়নি চার বছরে

4

ভাসমান পেয়ারার বাজার দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

5

বিশ্বে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ১৮তম

6

ঝালকাঠিতে কোটি টাকার আমড়া বিক্রি

7

৫০ বছরের পুরোনো সবজি হাট

8

চরাঞ্চলে অর্গানিক কৃষির সূচনা করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

9

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

10

বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

11

ভেজাল সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

12

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক

13

সিরাজগঞ্জে হাত ছিপ বর্শি দিয়ে বন্যার পানিতে মাছ শিকার

14

গ্রাম্য নারীদের ভাগ্য বদল কেঁচো সারে

15

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

16

রাজশাহী জেলায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

17

রাবার ড্যামের ছিদ্রে ঝুঁকিতে চাষাবাদ

18

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

19

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্

20