কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঋণের জালে বন্দি গুঠাইলের জেলেদের জীবন

জামালপুর সংবাদদাতাঃ 
ঋণের জালে বন্দি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল পাইলিং ঘাটের জেলেদের জীবন। পানি বাড়লে মাছ ধরে বাড়ে তাদের আয়। অন্য সময় মাছ না পেলে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় তাদের। এভাবে তারা বছরজুড়ে ঋণের জালে বন্দি থাকেন। 

যমুনায় মাছ ধরে জীবন চালান জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল পাইলিং ঘাটের শত শত জেলে। ভোরের আলো ফোটার আগেই যমুনার বুক চিরে নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তারা। শুরু হয় জেলেদের জীবনযুদ্ধ। মাছ ধরে একে একে ঘাটে ভিড়তে থাকে তাদের নৌকা। এখানে নামানো হয় রাতভর কষ্ট করে ধরা মাছ। কারও ঝুড়ি ভরা মাছ, আবার কারও ধরা মাছ এতটাই কম যে তা বিক্রি করে সংসারের বাজার খরচ মেটানোই কঠিন। এভাবে যমুনায় নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কমে মাছ, কমে আয়। আর সংসার চালাতে, নৌকা মেরামত কিংবা জাল কিনতে গিয়ে অনেকের জীবন জড়িয়ে পড়ে ঋণের জালে।

জেলেদের মাছ ক্রয়-বিক্রয় ঘিরে গুঠাইল ঘাটে গড়ে উঠেছে মাছের আড়ত। এখানেই কেনা বেচা হয় সব ধরনের মাছ। দুর দুরান্তের সাধারণ মানুষ সহ পাইকারি ক্রেতারা আসেন মাছ কিনতে। 
গুঠাইল ঘাটের আড়ৎদার রিপন মিয়া জানান, বছরের শুরুতে জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতের জন্য কিছু টাকা অগ্রিম নেন। পরে মাছ বিক্রির টাকা থেকে অল্প অল্প করে সেই ঋণ পরিশোধ করেন। ধরা মাছ ন্যায্য দামে বিক্রি করে ঋণের টাকা রেখে বাকি অর্থ জেলেদের দেওয়া হয়।

এই ঘাটে এখনো অনেকটাই পুরোনো নিয়মে চলে মাছের বেচাকেনা। আড়ৎদারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় মাছের দাম। ফলে নিজেদের ধরা মাছের মূল্য নির্ধারণে জেলেদের হাতে অনেক সময় খুব বেশি সুযোগ থাকে না।

গুঠাইল ঘাটের জেলে শ্রী নরেশ চন্দ্র জানান, নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। যতটুকু পাওয়া যায়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক জেলে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

দিন শেষে মাছ বিক্রি করে যখন ঘাট ছাড়েন জেলেরা, তখনও তাদের চোখে থাকে নতুন দিনের আশার আলো। কারণ যমুনাই তাদের জীবিকা, যমুনাই তাদের স্বপ্ন, আবার এই নদীই তাদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।

সাপধরী এলাকার জেলে রবিজল জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকায় কিছু মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে জেলেদের অলস সময় পার করতে হয়। তখন সংসার চালানোর জন্য মহাজনদের কাছ থেকে দাদন বা ঋণ নিতে হয়। পরে মাছ বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে হয়। এভাবেই অভাব-অনটনের মধ্যে চলছে তাদের জীবন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

1

জেভাজ কিটনাশকে কমছে উৎপাদনঃ কৃষকের সর্বনাশ

2

পেস্টিসাইড নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে-কৃষি, মৎস্

3

রংপুরে সবজি চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকদের

4

কিংস প্যালেসের পিজন স্কোয়ার-মানুষের সঙ্গে কবুতরের বন্ধুত্বপূ

5

শেকৃবির ‘আলোকিত মানুষ’ এর নেতৃত্বে সাইদ-শাহাদাত

6

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকা

7

১৫ জুলাই সব বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন

8

ফসলি জমিতে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা

9

আউশের ভাল ফলনেও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

10

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হার্ড লাইনে পরিবেশ অধিদপ্তর

11

পাহাড়ে হাতির অভয়াশ্রম

12

বনে ফিরলো ২৪ পাখি

13

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

14

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

15

৫দিন বৃষ্টিপাতের আভাস

16

দুর্যোগে কৃষি মৎস্য প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

17

১৯ অঞ্চলে ঝড় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

18

ডিলারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে বিএফএ’র সর্ত

19

পাঁচটি গরু থেকে ৫শ’ পশুর মালিক শহিদুল

20