কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হিমাগারের অভাবে বিপাকে কৃষক

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
হিমাগার না থাকায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা পর্যাপ্ত ফল-মূল ও সবজি উৎপাদন করেও তেমন লাভবান হতে পারছেন না। সংরক্ষণের অভাবে পঁচে যাওয়া সহ কম দামে বিক্রি বিক্রি করে তারা লাভবান হতে পারছেন না। এ সমস্য সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে তারা হিমাগার দাবী করে আসলেও তা আজও আমলে নেয়া হয়নি। 

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, রহিমপুর এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আলু, টমেটো, করলা, শিম, লেবু ও জনপ্রিয় আনারস বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয়। কিন্তু ফসল তোলার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে যায়। হিমাগার না থাকায় পচনের ভয়ে পানির দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। আলুচাষিরা নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ করতে না পারায় অন্য জেলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। লোকসান পুষিয়ে উঠতে না পেরে অনেক কৃষক ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।

চা ও লেবু শিল্পের বাইরে সবজি ও আনারস উৎপাদন করে সিলেটের কৃষিতে বড় অবদান রাখছেন এখানকার কৃষকেরা।

জানা যায়, সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার হিমাগার নির্মাণের জায়গা নির্বাচন ও প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই ফাইল আর আলোর মুখ দেখেনি। সরকারি প্রক্রিয়ার লাল ফিতায় আটকে আছে কৃষকদের এই আশার প্রদীপ। ফলে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে কৃষিপণ্য। আবার বাধ্য হয়ে কম দামে তা বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন,শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হিমাগার স্থাপন করা গেলে উৎপাদিত পণ্যের অপচয় বন্ধ হবে, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। 
কমলগঞ্জের স্থানীয় টমেটোচাষি আব্দুল মতিন ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই, কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে কম দামে বিক্রি করতে হয়। একটা হিমাগার থাকলে ফসল সংরক্ষণ করে পরে লাভজনক দামে বিক্রি করতে পারতাম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, লেবু, আনারস ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত। কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, এ উপজেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য বেশ কিছুদিন আগেই জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সান্তাহারে পুকুর চাষকৃত তিন মণ পিরানহা জব্দ

1

বোরো মৌসুমে জ্বালানিতে টান

2

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

3

মহিষের খামারে মহসীনের ভাগ্য বদল

4

কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবেঃ কৃষিমন্ত্রী

5

বাগেরহাটে অসময়ে লাউ চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদল

6

ছোট ফেনী নদীর ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

7

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

8

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

9

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

10

চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

11

কাঁঠাল বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান প্রযুক্তি উদ্ভাবন

12

পেয়ারায় অ্যানথাক্স রোগে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ

13

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

14

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

15

বদলগাছীতে আমন চারার হাট জমে উঠেছে

16

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

17

৯ জেলায় ঝড়ের আভাস

18

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

19

বড় বাজেট, কৃষির হিস্যা ছোট

20