ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ
টানা বৃষ্টিতে গাছ মরে যাওয়া এং বাজারে দাম না থাকায় ঝিনাইদহের মরিচ চাষীরা ক্ষীতগ্রস্থ হচ্ছেন। চাষীরা বলছেন,এবার তাদের এই চাষাবাদে লাভ তো দুরের কথা উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলায় এবছর ১৮২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। যেখানে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮০৮ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর তীব্র গরম এবং খরায় মরিচ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মরিচের ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ও বৃষ্টির পরে প্রখর রোদের প্রভাবে মারা যাচ্ছে মরিচ গাছ। অন্যদিকে বাজারে দাম না থাকায় মুখে হাসি নেই ঝিনাইদহের মরিচ চাষিদের।
ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে ৪০থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করছে চাষিরা। যা কয়েকদিন আগেও আগেও ছিলো ৭০ থেকে ১১০ টাকা। অনেকেই গাছ মারা যাওয়ার লক্ষণ বুঝতে পেরে অপরিপক্ক মরিচ তুলে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করছেন।
এখানকার উৎপাদিত মরিচ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকার বাজারগুলোর চাহিদা মেটায়। প্রতি বছরই মরিচ চাষে বেশ লাভবান হন জেলার কৃষক। তবে এবারই তারা ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন।
সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের কৃষক ফখরুল ইসলাম জানান, ধার দেনা করে দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। মরিচের দাম একেবারেই কম। যে দামে বিক্রি করছি তাতে তোলা খরচ, গাড়ি ভাড়া বাদ দিয়ে যৎসামান্য থাকছে। একে তো দাম নেই তার অর্ধেকের অর্ধেকের বেশি গাছ মরে গেছে। এবছর চাষে পুরোটাই লস হবে। একই চিত্র জেলার অন্যান্য উপজেলার মাঠগুলোতেও।
উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক মিলন হোসেন জানান,তিনি ১ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। অল্প কিছু মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করেছি। এর মধ্যেই মরিচ গাছ মরা শুরু হয়েছে। দাম কম এবং বৃষ্টির পরে তীব্র গরম ও খরায় গাছের মড়ক নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মরিচ গাছের বয়স হয়েছে, বৃষ্টির পর হঠাৎ তীব্র রোদ ও গরমের কারণে মরিচ গাছ মরতে পারে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সেচ নালা পরিস্কার করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
কৃ/স/জয়