সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গরু চুড়ির হিড়িক পড়েছে। গত এক মাসে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গোয়ালঘর। গরু চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে নওগাঁ ইউনিয়নের পংরৌহালী গ্রামের কৃষক তোরাপ আলীর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গরু চুরি হয়। পাঁচ গরুর আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা। একই ভাবে উপজেলার সিংগাড়পাড়া গ্রামের কৃষক বিপ্লব হোসেন ও সজল হোসেনের গোয়ালঘর থেকে আরও পাঁচটি গরু চুরি হয়। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লায় কৃষক হায়দার আলীর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গাভী, একটি ষাঁড় ও দুটি বকনা বাছুর চুরি করা হয়। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। পেঙ্গুয়াড়ি গ্রামের মো. মন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে চারটি এবং কুসুম্বি গ্রামের কৃষক সাজেদুল ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি গরু নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা।
পরপর গরু চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন। মন্টু মিয়া, বিপ্লব হোসেন ও তোরাপ আলীর ভাষ্য, সংঘবদ্ধ চোরচক্র পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করে গরু চুরি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা চোরচক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কৃষক হায়দার আলী বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর গোয়ালঘরে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের কোনো একসময় চোরের দল গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গাভী, একটি ষাঁড় ও দুটি বকনা বাছুর নিয়ে যায়। গরুগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
গরু চুরির বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. ইমাম জাফর বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
কৃ/স/জয়