জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের ইসলামপুরে এবার পাট চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে নতুন পাটের ভাল দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
জানা গেছে, চলতি বছর ইসলামপুরে ৭ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়লেও এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা নেই।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, পাটের দাম বাড়লেও এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক মজুরি গত বছরের ৭শ’ টাকা থেকে বেড়ে এবার ৮শ’-৯শ টাকা হয়েছে। ফলে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক মুনাফা পাচ্ছেন।
উপজেলার গুঠাইলসহ বিভিন্ন বড় পাটের হাট ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে নতুন পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ২শ থেকে ৪ হাজার ৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের এই সময়ে পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৭শ’ থেকে ২ হাজার ৯শ’টাকার মধ্যে।
তবে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যেতে পারে কি না-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া ও লক্ষীপুর গ্রামের সালাম হোসেন। তারা পুরো মৌসুমজুড়ে দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি জানান।
গুঠাইল হাটের পাট ব্যবসায়ী হাসমত আলী জানান, বাজারে আগাম চাষ করা পাট আসতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা বেশ জমজমাট। কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় বাজারে পাটের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল আহমেদ বলেন,আবহাওয়া ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় পাটচাষিরা এখন লাভজনক অবস্থায় আছেন। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ পর যখন বাজারে পাটের পূর্ণ সরবরাহ শুরু হবে, তখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
কৃ/স/জয়